এক বছরে ৩০টি পরমাণু অস্ত্র বাড়াল ভারত! শত্রুদের বুকে কাঁপন ধরাতে মোদির মেগা মাস্টারপ্ল্যান!

ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টস (এফএএস)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পরমাণু শক্তি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। দেশটির পরমাণু অস্ত্রাগারে বর্তমানে প্রায় ১৯০টি তৈরি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে, যার মধ্যে ১৬০টিরও বেশি সরাসরি সক্রিয় ডেলিভারি সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত। বিশেষ সূত্র ও আন্তর্জাতিক রিপোর্টের দাবি, গত এক বছরেই ভারত প্রায় ৩০টি নতুন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেছে। এর ফলে দেশের ‘নিউক্লিয়ার শিল্ড’ বা পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ভারতের মূল লক্ষ্য হলো শত্রুপক্ষের যেকোনো সম্ভাব্য পরমাণু হামলা প্রতিহত করা এবং দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।

সরকারিভাবে এই সংখ্যাগুলো প্রকাশ করা না হলেও, এফএএস-এর মতো বিশ্বমানের সংস্থার উপগ্রহ চিত্র এবং ওপেন সোর্স ডেটা থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত বর্তমানে প্রস্তুত থাকা উৎক্ষেপকের সংখ্যার চেয়ে বেশি অস্ত্র মজুত করছে। অগ্নি-প্রাইম এবং দূরপাল্লার কে-৪-এর মতো আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর জন্যই মূলত এই অতিরিক্ত অস্ত্রগুলো উৎপাদন বা উন্নয়নাধীন রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগতভাবে নতুন ডেলিভারি সিস্টেম সার্ভিসে আসার আগেই ওয়ারহেড প্রস্তুত রাখা একটি স্বাভাবিক ও অত্যন্ত বিচক্ষণ প্রক্রিয়া। যুদ্ধকালীন জরুরি পরিস্থিতিতে এই প্রস্তুতি দেশকে এক অপ্রতিরোধ্য সুবিধাজনক স্থানে রাখবে।

সবচেয়ে বড় কথা, অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও ভারত তার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ‘প্রথম ব্যবহার না করার’ (No First Use) নীতিতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ১৯৯৮ সালের পরমাণু পরীক্ষার পর থেকে নয়া দিল্লি নিজেদের আত্মসংযম বজায় রেখেছে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে আক্রান্ত না হলে তারা কখনোই এই অস্ত্র ব্যবহার করবে না। ভূমি, আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ বা ত্রিমুখী শক্তি গঠনে ভারত যেভাবে অবিরাম এগিয়ে চলেছে, তাতে চিন ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে বাধ্য। দায়িত্বশীল পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের এই সংযত অথচ শক্তিশালী অবস্থান বিশ্বমঞ্চে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।