ইউপি নির্বাচনে বড় মাস্টারস্ট্রোক! রাজ্যের ১ কোটি মহিলাকে ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার বিরাট ঘোষণা যোগী সরকারের!

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তর প্রদেশের মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে তুলতে এক সুদূরপ্রসারী ও মাস্টারস্ট্রোক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। রাজ্যের প্রায় এক কোটি মহিলাকে ধাপে ধাপে মোট ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুদহীন ঋণ বা লোন দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বিশেষ ব্যাপার হলো, এই পুরো টাকা সরাসরি সরকারি অনুদান হিসেবে নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট ব্যাংকিং মডেলের মাধ্যমে দেওয়া হবে, যেখানে ঋণের গ্যারান্টার ও সুদের ভার নেবে স্বয়ং রাজ্য সরকার।
কীভাবে মিলবে ১ লক্ষ টাকার এই লোন?
এই পুরো পরিকল্পনাটি মূলত তিনটি ধাপে বা স্টেপ-আপ ক্রেডিট মডেলের মাধ্যমে রূপায়ন করা হবে:
প্রথম কিস্তি: প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি যোগ্য মহিলাকে ২০ হাজার টাকার প্রথম কিস্তি দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় কিস্তি: প্রথম কিস্তির টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার করে তা সময়মতো শোধ করার পরেই মিলবে ৩০ হাজার টাকার দ্বিতীয় কিস্তি।
তৃতীয় কিস্তি: দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে পার করার পর শেষ ধাপে মিলবে ৫০ হাজার টাকার তৃতীয় কিস্তি।
সব মিলিয়ে তিন ধাপে একজন মহিলা সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা বা লোন পেতে পারেন। সরকারের এই শর্তের মূল উদ্দেশ্য কেবল টাকা বিতরণ করা নয়, বরং মহিলাদের ছোটখাটো ব্যবসা ও স্বরোজগারের সঙ্গে যুক্ত করে অর্থনৈতিকভাবে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা।
ব্যাংকিং মডেল এবং সরকারের ভূমিকা
এক কোটি মহিলাকে একসঙ্গে সাহায্য করার জন্য সরকারের ওপর বিশাল আর্থিক চাপ এড়াতে এই বিশেষ ব্যাংকিং মডেল তৈরি করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, সরাসরি কোষাগার থেকে টাকা না দিয়ে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে লোন পাইয়ে দেওয়া হবে। এই ঋণের বিপরীতে কোনো সুদ মহিলাদের দিতে হবে না; বরং সেই সুদের পুরো বোঝা বহন করবে রাজ্য সরকার নিজে। এছাড়াও ব্যাংক লোনের ক্ষেত্রে গ্যারান্টার হিসেবেও ভূমিকা পালন করবে প্রশাসন।
বর্তমানে উত্তর প্রদেশে প্রায় ৮ লক্ষ ৯৯ হাজার স্বয়ংসহায়ক দলের সঙ্গে প্রায় ৯৮ লক্ষেরও বেশি মহিলা যুক্ত রয়েছেন। ফলে নতুন করে কোনো নেটওয়ার্ক তৈরি না করেই এই বিশালসংখ্যক নারীর কাছে খুব সহজেই পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে প্রথম কিস্তির ২০ হাজার টাকা সময়মতো পরিশোধ না করলে পরবর্তী কিস্তির পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা এই প্রকল্পের একটি কড়া শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে যোগী সরকারের এই নারী-মুখী মাস্টারপ্ল্যান এখন রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।