চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলের বন্যা! ফেয়েনুর্ডকে সপাটে উড়িয়ে রাফিনহা-ইয়ামালের বার্সেলোনা যা করল, চোখ কপালে উঠবে সবার

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মরশুমের শুরুতেই ইউরোপের ফুটবল মাঠে বইল গোলের সুনামি। দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে টুর্নামেন্টের শুরুতেই নিজেদের অপ্রতিরোধ্য শক্তির জোরালো জানান দিল স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা এবং গতবারের চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সাঁজা (পিএসজি)। অন্যদিকে, খাদের কিনারা থেকে অবিশ্বাস্য কামব্যাক করে জয় ছিনিয়ে নিল লিভারপুল ও আর্সেনাল। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাতটি ছিল চরম রোমাঞ্চকর এবং অবিশ্বাস্য সব গোল ও নাটকে ভরপুর।
শুরুতেই ফেয়েনুর্ডের বিরুদ্ধে দাপুটে ফুটবল খেলে পাঁচ গোলের বিশাল জয় তুলে নেয় বার্সেলোনা। বিশ্বকাপ পরবর্তী সময়েও নিজের দুর্দান্ত ফর্ম বজায় রেখে ব্রাজিলীয় তারকা রাফিনহা ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত গোলের খাতা খোলেন। ফেয়েনুর্ডের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে জোড়া গোল করেন তিনি। পাশাপাশি করিম আদেয়েমি, তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল এবং বার্সেলোনার জার্সিতে অভিষেক ম্যাচেই গোল করে নিজের উপস্থিতি জানান দেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ফেয়েনুর্ডের সেম স্টেইন একটি সান্ত্বনামূলক গোল করলেও বার্সার আক্রমণাত্মক ফুটবল ছিল এককথায় অপ্রতিরোধ্য। একই দিনে খেতাব ধরে রাখার অভিযানে স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে কার্যত গোল বন্যায় ভাসিয়ে দেয় পিএসজি। উসমান ডেম্বেলের জোড়া গোলের সুবাদে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ফরাসি ক্লাবটি। এরপর দারুণ ছন্দে থাকা ফেরান তোরেস হ্যাটট্রিক করে পিএসজির জয়কে আরও বেশি সুনিশ্চিত করেন। শেষদিকে ফাবিয়ান রুইজের পা থেকে আসে দলের ষষ্ঠ গোল।
অন্যদিকে, অ্যানফিল্ডে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হয়ে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় লিভারপুল। মার্কোস ইয়োরেন্তের গোলে এগিয়ে যায় প্রতিপক্ষ। তবে কোচ আর্নে স্লটের ছেলেরা দ্রুত খেলায় ফিরে আসে। ডমিনিক সোবোসলাই সমতা ফেরানোর পর দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত গোল করে লিভারপুলকে জয় এনে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। চাপের মুখে এমন লড়াকু জয় প্রিমিয়ার লিগ জায়ান্টদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, নাপোলির বিরুদ্ধে আর্সেনালের লড়াইটি বেশ কঠিন ছিল। একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করায় গানার্সদের ফিনিশিং নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, শেষপর্যন্ত ধৈর্য ধরে লড়াই চালিয়ে যান ওডেগার্ডরা। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের জাদুকরি পায়ে গোল আসতেই নাপোলির রক্ষণ দুর্গ ভেঙে পড়ে এবং কষ্টার্জিত জয় নিশ্চিত করে আর্সেনাল। সবমিলিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের এই রুদ্ধশ্বাস রাত ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘকাল মনে রাখবে।