বিসিসিআইয়ের ওপর চাপছে নতুন আইনের ফাঁস! সুপ্রিম কোর্টের কড়া প্রশ্নে ঘুম উড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের?

ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI) এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও সরাসরি অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের এক বেঞ্চ রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলোর আবেদনের শুনানি চলাকালীন বিসিসিআইকে একটি অত্যন্ত জোরালো প্রশ্ন করেছে। আদালতের স্পষ্ট জিজ্ঞাসা— কেন বিসিসিআই এবং এর অধীনস্থ রাজ্য অ্যাসোসিয়েশনগুলো নতুন ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্নেন্স অ্যাক্ট ২০২৫’-এর আওতায় আসবে না?

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ

শীর্ষ আদালত বিসিসিআই এবং রাজ্য সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে, তারা যেন তাদের মক্কেলদের সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ে দ্রুত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে। আদালত জানতে চেয়েছে, কার্যকর হওয়া এই নতুন আইনের অধীনে কেন বোর্ড কর্তাদের চাকরির নিয়ম এবং শর্তাবলী নির্ধারিত হবে না? আদালতের এই আকস্মিক ও কড়া অবস্থানের পর বিসিসিআই শিবিরের অন্দরে বড়সড় আইনি চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বোর্ডের যুক্তি ও আইনি লড়াই

এর আগে ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন সংক্রান্ত একটি মামলায় ওড়িশা হাইকোর্টে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছিল বিসিসিআই। বোর্ডের পক্ষ থেকে দাখিল করা হলফনামায় যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্নেন্স অ্যাক্ট ২০২৫’ কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও ক্রিকেট খেলাটিকে এই আইনের অধীনে স্পষ্টভাবে মনোনীত বা নোটিফাই করা হয়নি। তাছাড়া, বিসিসিআইয়ের দীর্ঘদিনের মূল দাবি হলো যে তারা কেন্দ্র কিংবা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনো রকম আর্থিক অনুদান বা সরকারি সাহায্য নেয় না। আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বাবলম্বী হওয়ার কারণে কোনো সরকারি ক্রীড়া আইন বা নিয়ম তাদের ওপর বলবৎ হওয়া উচিত নয় বলে বোর্ডের মত।

আরটিআই (RTI)-এর পরিধি নিয়ে মূল বিতর্ক

এই নতুন ক্রীড়া আইনের আওতায় চলে এলে বিসিসিআইয়ের ওপর ‘তথ্য জানার অধিকার’ বা আরটিআই (RTI)-এর কোপ পড়তে পারে। এমনটা হলে বোর্ডের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক কাজকর্মের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের কাছে তার জবাবদিহি করতে হবে। বিসিসিআই প্রথম থেকেই এই নির্দিষ্ট ধারাটির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বিসিসিআই লোধা কমিটির সুপারিশগুলো কঠোরভাবে মেনে চলে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা টানা দুটি মেয়াদের বেশি পদে থাকতে পারেন না এবং এরপর তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে তিন বছরের ‘কুলিং-অব পিরিয়ড’-এ যেতে হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান শুনানির জেরে যদি বোর্ডকে নতুন ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্নেন্স অ্যাক্ট’-এর ছাতায় নিয়ে আসা হয়, তবে আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের কাঠামোগত ব্যবস্থায় এক বিরাট ও ঐতিহাসিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।