হালার পর প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে ফের বিয়েতে অস্বীকৃতি! ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের রায়ে বড় আইনি বার্তা!

বিবাহবিচ্ছেদ এবং ইদ্দত বা হালার প্রক্রিয়ার পর প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য পূর্ব স্বামী কোনোভাবেই আইনগতভাবে বাধ্য নন— অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক রায়ে এই কথা স্পষ্ট করে দিল ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। আদালতের মতে, পূর্ব স্বামীর পক্ষ থেকে পুনরায় বিয়ে করতে অস্বীকার করা কোনো অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। একই সঙ্গে এই মামলায় অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির আগাম জামিনের আবেদনও মঞ্জুর করেছে আদালত।
ঠিক কী ছিল এই মামলার প্রেক্ষাপট?
ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার ধনওয়ার থানা এলাকার এই ঘটনায় জানা যায়, ২০২০ সালে এক মুসলিম দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কোন্দলের জেরে বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক সম্পন্ন হয়। এর পর বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায় এবং নারীর পক্ষ থেকে স্বামীর বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা হয়ে গিয়েছিল।
এরপর ওই তালাকপ্রাপ্তা নারী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক ভাঙার পর তিনি ফের তাঁর প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় নিকাহ বা বিবাহ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অভিযোগ ওঠে যে, প্রথম স্বামী তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে পুনরায় ঘর করতে বা দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। এরপরই ওই নারীর পক্ষ থেকে প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে নতুন করে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশি গ্রেপ্তারি এড়াতে ওই ব্যক্তি ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার কুমারের আদালতে এই মামলার দীর্ঘ শুনানি হয়।
হাইকোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ
উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি শোনার পর আদালত অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বিবাহবিচ্ছেদের পর কোনো নারীর অন্য পুরুষের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর প্রথম স্বামীর ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না যে তাঁকে পুনরায় ওই নারীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতেই হবে। শুধুমাত্র প্রাক্তন স্বামী ফের বিয়ে করতে রাজি হননি— এই একক কারণে এটিকে ফৌজদারি অপরাধ বা সংজ্ঞেয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
আদালত আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, প্রচলিত ফৌজদারি আইন কিংবা মুসলিম পার্সোনাল ল অনুযায়ী কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে কাউকে বিয়ে করতে বাধ্য করা যায় না। কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্মতি ও স্বাধীনতা মৌলিক বিষয়। এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে হাইকোর্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ২৫ হাজার টাকার দুটি ব্যক্তিগত মুচলেখার বিনিময়ে আগাম জামিনের সুবিধা প্রদান করেছে। আইনি মহলে এই রায়টিকে অত্যন্ত দূরদর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।