অভিষেকের ঘনিষ্ঠদের ওপর পুলিশের কড়া নজর! এবার শেক্সপিয়ার সরণি থানায় ৬ ঘণ্টার মেগা জিজ্ঞাসাবাদ ডেরেককে

কায়মাক স্ট্রিটে ঘটা অভূতপূর্ব ঘটনার রেশ কাটছেই না। গত ২৭ আগস্ট তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের সামনে পুলিশ ও পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি এবং বাধার দেওয়ার ঘটনায় আইনি চাপ বাড়ছে শাসকদলের নেতাদের ওপর। সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জেরার পর, মঙ্গলবার শেক্সপিয়ার সরণি থানায় তলব করা হয় তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। সকাল ১১টা ১০ মিনিট নাগাদ থানায় পৌঁছানোর পর টানা ৬ ঘণ্টা তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
কী নিয়ে এই জিজ্ঞাসাবাদ? পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৭ আগস্ট বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, কেন পরিস্থিতি অতটা উত্তপ্ত হলো এবং সরকারি কর্মীদের কাজে কেন বাধা দেওয়া হলো—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয় ডেরেকের কাছে। কারও বিশেষ নির্দেশেই এই গণ্ডগোল হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। পুলিশ ডেরেক ও’ব্রায়েনের সমস্ত বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি পুরো জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও সম্পন্ন করেছে।
পরপর তলব এবং তিনটি এফআইআর: ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ ও পুরসভার দায়ের করা মোট তিনটি এফআইআরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়, সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীর সহ একাধিক জনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর ডেরেককে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এরপর কলকাতা পুরসভার আধিকারিক সুদীপকুমার বসুর করা নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার তাঁকে দ্বিতীয়বার তলব করা হয়। এই একই মামলায় ইতিমধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জেরা করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পরবর্তী পদক্ষেপে বুধবার সকালে ডেবরার প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীরকে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় তলব করা হয়েছে।