Eating Habits: আপনিও কি খুব দ্রুত খাবার খান? অজান্তেই ডেকে আনছেন না তো বড় বিপদ? জানুন এর আসল মনস্তাত্ত্বিক কারণ

খাওয়ার টেবিলে বাকিদের প্লেটে খাবার শেষ হওয়ার অনেক আগেই কি আপনার থালা ফাঁকা হয়ে যায়? কিংবা খাবার মুখে গুঁজে কোনো বিরতি না নিয়েই দ্রুত গিলতে শুরু করেন? এমন অভ্যাস অনেকেরই থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের খাওয়ার এই গতির পেছনে শুধু ব্যস্ত জীবনযাত্রা বা অভ্যাসের ব্যাপার নয়, লুকিয়ে রয়েছে গভীর কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ।
দ্রুত খাওয়ার মনস্তাত্ত্বিক দিক: মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যাঁরা খুব দ্রুত খাবার খান, তাঁদের মধ্যে সাধারণত দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার ধৈর্য কম থাকে। লম্বা লাইনে দাঁড়ানো বা ধীরগতির কোনো কাজ তাঁরা পছন্দ করেন না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্রুত গতি বজায় রাখতে পছন্দ করেন এই ধরণের মানুষরা। এর পাশাপাশি, অনেকে খেতে খেতে ফোন দেখা বা অফিসের কাজ করার মতো বহুবিদ কাজে ব্যস্ত থাকেন। এর ফলে খাবারের প্রতি তাঁদের সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকে না, যাকে মূলত ‘কাজকেন্দ্রিক আচরণ’ বলা হয়ে থাকে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অন্যান্য কারণ: খাবার খাওয়ার পর পেট ভরে যাওয়ার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে কিছুটা সময় নেয়। কিন্তু দ্রুত খেলে সেই সংকেত পৌঁছানোর আগেই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি খাবার খেয়ে ফেলার ঝুঁকি থাকে, যা হজমের গণ্ডগোল ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তাছাড়া ছোটবেলার পারিবারিক রুটিন, কাজের অতিরিক্ত চাপ, মানসিক উদ্বেগ কিংবা সংস্কৃতির মতো বিষয়গুলিও মানুষের খাওয়ার গতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে।
তাই কাউকে দ্রুত খেতে দেখলেই তাঁকে অধৈর্য বলে বিচার না করে, খাবার মন দিয়ে চিবিয়ে খাওয়া এবং তার স্বাদ উপভোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এতে একদিকে যেমন পেটের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, তেমনই মনের সঙ্গেও শরীরের সঠিক সংযোগ তৈরি হয়।