না জেনে বড় ভুল! তিন দিন ধরে ঘরেই গর্ভপাতের ওষুধ খেয়ে অতিরিক্ত রক্তপাতে মৃত্যু অসমের তরুণীর

অন্ধ্রপ্রদেশের পালনাডু জেলার চিলাকালুরি পেট এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় ১৭ বছরের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের কোনো রকম পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই গর্ভপাতের কিট ব্যবহার করার ফলেই এই ভয়াবহ পরিণতি ঘটে। এই অকাল মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পালনাডু জেলার মেডিক্যাল অ্যান্ড হেলথ অফিসার (DMHO) সিএইচ. রত্ন মনমোহন এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে জানিয়েছেন যে, মৃত ওই কিশোরী মূলত অসমের বাসিন্দা ছিল। জীবিকার সন্ধানে সে অন্ধ্রপ্রদেশে এসে স্থানীয় বায়াপালেম এলাকার একটি স্পিনিং মিলে কাজ শুরু করে। সেখানে সে এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করত এবং এই সময়ের মধ্যে সে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
গর্ভাবস্থা গোপন বা অবসান করার উদ্দেশ্যে সে স্থানীয় কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে সরাসরি একটি ওষুধের দোকান থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই গর্ভপাতের কিট কিনে নিয়ে আসে। অভিযোগ উঠেছে, বাড়িতে বসেই টানা তিন দিন ধরে ওই কিশোরী গর্ভপাতের ওষুধ সেবন করে। তৃতীয় দিনের রাতে তার শরীর মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ে। তীব্র পেটে ব্যথা এবং অতিরিক্ত রক্তপাত শুরু হলে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরিবারের লোকজন বা সঙ্গীরা তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সব শেষ হয়ে যায়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। চিকিৎসা কর্মকর্তারা এই মর্মান্তিক ঘটনায় একটি ‘মেডিকো-লিগাল’ বা আইনি-চিকিৎসা সংক্রান্ত মামলা নথিভুক্ত করেছেন এবং নিয়মানুযায়ী মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। ডিএমএইচও স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া নিষিদ্ধ উপায়ে গর্ভপাতের কিট বিক্রি করার অপরাধে নির্দিষ্ট ওষুধের দোকান এবং এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা সংশ্লিষ্ট আরএমপি (RMP) ও পিএমপি (PMP)-দের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও দায়ের করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই পদক্ষেপে অবৈধ ওষুধ বিক্রির চক্রগুলো এখন চরম আতঙ্কে রয়েছে।