হরমুজ প্রণালী বন্ধ কেন? ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান, কাঠগড়ায় খোদ আমেরিকা ও কানাডা!

মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে চরম উত্তেজনার মুখোমুখি। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে থেমে থেমে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের জহর ছড়াচ্ছে। ঠিক এই সংঘাতের মাঝেই ওয়াশিংটনের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে কানাডাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে তেহরান। অটোয়া প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘হুমকির কাছে নতি স্বীকার’ করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইরান। মূলত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং একাধিক ইরানি ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর কানাডার সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করেই এই নতুন কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি জোরালো পোস্টের মাধ্যমে কানাডার বর্তমান নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, কানাডার শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীরা অযথা ইরানবিরোধী মন্তব্য করে মূলত তাদের ‘ধমকবাজ প্রতিবেশী’ যুক্তরাষ্ট্রকে তুষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডা সম্পর্কীয় সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের উদাহরণ টেনে বাকাই দাবি করেন যে, ওয়াশিংটন ধারাবাহিকভাবে কানাডার নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অসম্মান করে চলেছে। বিশেষ করে, ট্রাম্প যখন কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, তখন থেকেই অটোয়ার মন্ত্রীরা নিজেদের মেরুদণ্ড বিকিয়ে দিয়ে ওয়াশিংটনকে খুশি করার নীতি বেছে নিয়েছেন বলে তোপ দেগেছেন তিনি।
এদিকে, বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পক্ষেও জোরালো যুক্তি দিয়েছে তেহরান। ইসমাইল বাকাই স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর আগে পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং নিরাপদ ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারির ওই হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই বাধ্য হয়ে ইরান ওই জলপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এই কৌশলগত প্রণালীতে চলমান সংকটের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকেই কানাডা দুশোরও বেশি ইরানি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে এবং পশ্চিমা মিত্রদের সুরে সুর মিলিয়ে তেহরানের কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেছে।
কানাডার এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে বাকাই প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন সামরিক আগ্রাসন ও মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে ওয়াশিংটনের একতরফা হস্তক্ষেপকে সমর্থন করে কীভাবে অটোয়া নিজেদের ‘শান্তি, নিরাপত্তা ও নৌচলাচলের স্বাধীনতার রক্ষক’ বলে দাবি করতে পারে? ওয়াশিংটনের সঙ্গে সার্বিক রাজনৈতিক সম্পর্কের শীতলতা সত্ত্বেও কানাডা কেন অন্ধের মতো মার্কিন পদক্ষেপকে সমর্থন করে চলেছে, তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, যদি সাগরে নৌচলাচলের স্বাধীনতাই একমাত্র লক্ষ্য হয়, তবে অন্ধভাবে ওয়াশিংটনকে সমর্থন না করে কানাডার উচিত আমেরিকার সামরিক অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানানো। একে কূটনীতি বা দায়িত্বশীল শাসন বলতে নারাজ তেহরান। এটিকে নিছক ‘কৌশলগত বিভ্রান্তি এবং আগ্রাসী শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ’ বলে অভিহিত করে বাকাই সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, অন্ধভাবে ওয়াশিংটনকে সমর্থন করলেই কানাডা আমেরিকার আগ্রাসন থেকে রক্ষা পাবে না।