মুক্তির এক মাস পর বক্স অফিসে অবিশ্বাস্য সুনামি! ‘হনুমান অংশ’-র রেকর্ড ভাঙা কামব্যাকে তোলপাড় ইন্ডাস্ট্রি

ডেইলিমেশনের বিনোদন জগতের সমস্ত হিসাব ওলটপালট করে দিয়ে এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস তৈরি করল ড. বিশাল চতুर्वेদী পরিচালিত পিরিয়ড ড্রামা ও আধ্যাত্মিক ছবি ‘হনুমান অংশ’। রিলিজের দীর্ঘ এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও এই সিনেমার বক্স অফিস গতি কমেনি, বরং দিন যত গড়াচ্ছে এর জাদু ততই গভীর হচ্ছে। ট্রেড অ্যানালিস্ট পোর্টাল সাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির ৩১তম দিনে (রবিবার) সারা ভারতে প্রায় ২২ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার বাম্পার নেট কালেকশন করে সর্বকালের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে এই ছবি। এর মধ্য দিয়ে ভারতে ছবিটির মোট নেট সংগ্রহ পৌঁছে গেছে ১২২ কোটি ১৩ লক্ষ টাকারও বেশি, এবং গ্রॉस কালেকশন ছুঁয়েছে ১৪৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার গণ্ডি। ওই বিশেষ দিনে দেশজুড়ে মোট ৭,০৭৭টি শো প্রদর্শিত হয়েছিল, যা পঞ্চম সপ্তাহের কোনো ছবির জন্য একেবারে অভাবনীয়।

চলচ্চিত্র দুনিয়ায় এই ঘটনা এক বিরল দৃষ্টান্ত। সাধারণত প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে ছবি সুপারহিট হয়ে শেষের দিকে ঝিমিয়ে পড়ে, কিন্তু ‘হনুমান অংশ’-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। প্রথম সপ্তাহে মাত্র ১ কোটি ৮ লক্ষ এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে মাত্র ৪০ লক্ষ টাকা আয় করা এই ছবি তৃতীয় সপ্তাহে ঘুরে দাঁড়ায় ১০ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার ব্যবসা করে। এরপর চতুর্থ সপ্তাহে অবিশ্বাস্য গতিতে ৬১ কোটি টাকা পকেটে পুরে বক্স অফিসে সুনামি তোলে। সবথেকে বড় চমক দেখা গিয়েছে পঞ্চম উইকেন্ডে, যেখানে ২৯তম দিনে ১০ কোটি, ৩০তম দিনে ১৬ কোটি ৫০ লক্ষ এবং ৩১তম দিনে সরাসরি ২২ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা কামিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। শনি থেকে রবিবারের ব্যবধানে একদিনের আয় বেড়েছে প্রায় ৩৭.৯ শতাংশ।

দর্শকদের উন্মাদনা ও থিয়েটারের সিট দখলের হার বা অকুপেন্সি রেট দেখলে চোখ কপালে উঠবে। রবিবারের বিভিন্ন শোতে হিন্দি টু-ডি সংস্করণের সামগ্রিক অকুপেন্সি ছিল প্রায় ৭৮.৫৪ শতাংশ। সকালের শোতে ৫৭ শতাংশ দর্শক থাকলেও দুপুরের দিকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬.৬২ শতাংশে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, সন্ধ্যার শোতে প্রেক্ষাগৃহগুলিতে প্রায় ৯২.৮৫ শতাংশ সিট ভর্তি ছিল এবং রাতের শোতেও এই রেশ বজায় ছিল প্রায় ৭৭.৬৯ শতাংশে। এটি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে শুধু শোয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রবল আগ্রহের কারণেই এই ছবি বক্স অফিসে এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে।

‘ডিভাইন ডিটোর: দ্যাট চেঞ্জড মাই লাইফ’ নামক জনপ্রিয় উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘হনুমান অংশ’ হলো একটি পরিকল্পিত ট্রিলজির প্রথম অধ্যায়। ব্রিটিশ আমল বা স্বাধীনতার আগের ভারতের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি তরুণ লক্ষ্মীনারায়ণের জীবন এবং আধ্যাত্মিক রূপান্তরের বাস্তব কাহিনী ফুটিয়ে তোলে। মায়ের অকাল মৃত্যুর পর ঈশ্বর সন্ধানে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়া এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অলৌকিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কীভাবে তিনি পরবর্তীকালে বিশ্বখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী নিম করৌলি বাবা হয়ে উঠলেন, সেই রোমাঞ্চকর ও হৃদয়স্পর্শী যাত্রাই এই ছবির মূল উপজীব্য। ধীরগতির সূচনা থেকে শুরু করে এক মাসের মাথায় এসে এই মেগাহিট ছবিটির বক্স অফিস মোমেন্টাম এখন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অনন্য পাঠে পরিণত হয়েছে।