ছ’ দশক পরেও কেন ফুরোয় না এই জাদুকরি গান? জেনে নিন বলিউডের চিরকালীন ক্লাসিকের নেপথ্য কাহিনী!

১৯৬৬ সালে বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল রাজেন্দ্র কুমার এবং বৈজয়ন্তীমালা অভিনীত সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র ‘সুরজ’। এই ছবির প্রতিটি গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে, যার মধ্যে ‘বাহারোঁ ফুল বরসাও’ গানটি একটি কালজয়ী ক্লাসিক হিসেবে অমর হয়ে রয়েছে। ছয় দশক পেরিয়ে গেলেও প্রিয়জনকে বরণ করে নেওয়ার এই রোমান্টিক সুরটি হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। যখন পর্দায় রাজেন্দ্র কুমার বৈজয়ন্তীমালার জন্য এই গানটি গেয়েছিলেন, তখন তাঁদের অনবদ্য রসায়ন গোটা দেশকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছিল। প্রকৃতিকে ফুল বর্ষণ করার এই আবেদনময়ী সুর আজও ভারতীয় বিবাহ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে মানুষের মনে এক বিশেষ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

প্রখ্যাত জুটি শঙ্কর-জয়কিষাণ ভারতীয় শাস্ত্রীয় রাগ শিবরঞ্জনীর ওপর ভিত্তি করে অত্যন্ত নিখুঁত ও সরল ভঙ্গিতে এই সুরটি তৈরি করেছিলেন, যা সরাসরি শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। অমর গীতিকার হাসরাত জয়পুরীর জাদুকরি কলমে প্রেম কেবল দুজন মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতি হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা প্রকৃতির এক অপূর্ব উদযাপন হিসেবে ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে, মোহাম্মদ রফির রাজকীয় ও মধুর কণ্ঠ এই গানে এক স্বর্গীয় ও রোমান্টিক আবহ তৈরি করেছিল, যা আজও সমানভাবে শ্রোতাদের শিহরিত করে।

টি. প্রকাশ রাও পরিচালিত ‘সুরজ’ চলচ্চিত্রে রাজেন্দ্র কুমার ‘সুরজ সিং’ এবং বৈজয়ন্তীমালা ‘অনুরাধা সিং’-এর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। রাজকীয় জাঁকজমক ও রোমাঞ্চকর প্রেমের গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবিতে অজিত, মুমতাজ, জনি ওয়াকার এবং ললিতা পাওয়ারের মতো কিংবদন্তি তারকারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। মোহাম্মদ রফির জাদুকরী কণ্ঠে গাওয়া এই ছবির প্রতিটি গান ছবির ব্যবসায়িক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। প্রায় পাঁচ কোটি রুপি সংগ্রহ করে এই ছবি ১৯৬৬ সালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল এবং বক্স অফিসে সুপারহিট মর্যাদা অর্জন করেছিল। এর সুমধুর সঙ্গীত এবং শক্তিশালী চিত্রনাট্য আজও ভারতীয় সিনেমার স্বর্ণযুগের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে সমাদৃত।