হাজার টাকার দিন শেষ! পুজোর আগে সোজা দেড় হাজার টাকা ঢুকে গেল ৮২ লক্ষ মানুষের অ্যাকাউন্টে

রাজ্যে পালাবদলের পর ১০০ দিন পার হতেই সাধারণ মানুষের জন্য এক ঐতিহাসিক ও বড় আর্থিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল নতুন সরকার। প্রতিশ্রুতি মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অধীনে বার্ধক্য, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের মাসিক ভাতা এক লাফে অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে হাজার টাকার পরিবর্তে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তারা প্রতি মাসে সরাসরি দেড় হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। সোমবার অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে একটি বিশেষ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বর্ধিত ভাতার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনই রাজ্যের মোট ৮২ লক্ষ ৫ হাজার ৯১৯ জন উপভোক্তার সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্ধিত এই ভাতার টাকা সফলভাবে পৌঁছে গিয়েছে।

এই মেগা সূচনা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী মালতী রাভা রায় এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়সহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্য এবং শীর্ষস্থানীয় আমলারা। রাজ্য ক্যাবিনেটের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি কোষাগার থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৪ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা খরচ হতে চলেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ভাতা বৃদ্ধির জন্যই রাজ্যের ঘাড়ে অতিরিক্ত ৬ হাজার কোটি টাকার আর্থিক বোঝা এসে চাপছে। তীব্র অর্থনৈতিক অনটন এবং পূর্বতন সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণের পাহাড় সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, ভাতা প্রদানে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে এবং দুর্নীতি রুখতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করেছে বর্তমান প্রশাসন। বিগত সরকারের আমলের সমস্ত অপেক্ষমান তালিকা বা ‘ওয়েটিং লিস্ট’ সম্পূর্ণভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ নির্দেশ, বিগত সরকারের ওয়েটিং লিস্ট আজ থেকে বাতিল করা হলো। বর্তমান সরকারের আমলে যাঁরা ‘জনকল্যাণ শিবির’ এবং ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ কর্মসূচিতে আবেদন জানিয়েছেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ ভেরিফিকেশনের পর তাঁদেরই একনিষ্ঠভাবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভুয়ো উপভোক্তা চিহ্নিত করতে গিয়ে প্রশাসন দেখেছে যে, মৃত ব্যক্তিদের নামে টাকা তোলা হচ্ছে, বয়স লুকিয়ে বার্ধক্য ভাতা নেওয়া হচ্ছে, এমনকি পুরুষের অ্যাকাউন্টে পর্যন্ত বিধবা ভাতার টাকা ঢুকেছে! পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় এই ধরনের এক ভুয়ো উপভোক্তাকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল কড়া নির্দেশ দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ১০০ শতাংশ নিশ্চিত না হয়ে কোনো যোগ্য মানুষের নাম তালিকা থেকে কাটা যাবে না। নগরোন্নয়ন দফতরের প্রাথমিক সমীক্ষাতেই শহর অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার ভুয়ো নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

এদিনের অনুষ্ঠানে মহিলাদের জন্য আরও একটি বিশেষ আর্থিক সুরক্ষার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যে সমস্ত বিধবার বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, তাঁদের দেড় হাজার টাকার সাধারণ ভাতা ছেড়ে মাসিক ৩ হাজার টাকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তাঁরা আর্থিকভাবে আরও বেশি উপকৃত হবেন। তবে বিশেষভাবে সক্ষম (দিব্যাঙ্গ) মহিলাদের ক্ষেত্রে নিয়মটি আরও অনেক বেশি আকর্ষণীয় করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যে সমস্ত মহিলা দিব্যাঙ্গ, তাঁরা সাধারণ দেড় হাজার টাকা ভাতার পাশাপাশি অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র সুবিধাও একসঙ্গে পাবেন। অর্থাৎ, তাঁরা প্রতি মাসে সম্মিলিতভাবে মোট সাড়ে চার হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা লাভ করবেন। आगामी নভেম্বর বা ডিসেম্বরের শেষে রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ওয়ার্ড স্তরে ফের দু’দিনের বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজন করা হবে, যেখান থেকে নতুন আবেদন গ্রহণ ও যাচাই করে যোগ্যদের ভাতার আওতায় আনা হবে।