“ইসরোকে কি বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে?” চরম চাঞ্চল্যের মুখে মুখ খুলল খোদ কর্তৃপক্ষ!

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা তথা ইসরো-র বেসরকারিকরণ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে চরম জল্পনা ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল যে, দেশের গর্বের এই মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রকে কি তবে এবার পুরোপুরি বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে? অবশেষে সমস্ত জল্পনা ও গুঞ্জনে জল ঢেলে দিল খোদ কর্তৃপক্ষ। ইসরোকে বেসরকারি সংস্থার হাতে হস্তান্তরের কোনো প্রশ্নই নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরো সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণেই থাকবে এবং এর মহিম ও গুরুত্ব বিন্দুমাত্র হ্রাস পাবে না বলে অফিশিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ইন-স্পেসের (IN-SPACe) চেয়ারম্যান পবন কুমারের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল। তিনি একটি অনুষ্ঠানে দাবি করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে ইসরো আর কোনো রকেট তৈরি বা উৎক্ষেপণ করবে না। এই সমস্ত কাজ পুরোপুরি বেসরকারি সংস্থাগুলির হাতে সঁপে দেওয়া হবে। এই মন্তব্যের পরেই ইসরোর হাজার হাজার কর্মী এবং তাঁদের পরিবারগুলির মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি এই বিষয়ে ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে একটি স্মারকলিপিও পাঠান নয়টি কর্মী সংগঠন।

তারই তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ইসরোর তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে সাফ জানানো হয় যে, এই ধরনের ভিত্তিহীন জল্পনার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। ইসরো আগের মতোই দেশের মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের প্রধান এবং সর্বোচ্চ সংস্থা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে। যা মূলত জাতীয় এবং কৌশলগত বিভিন্ন মিশন, মহাকাশ বিজ্ঞান এবং অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তিগত বিষয়গুলি পরিচালনা করবে। এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রায় ১০০ জন বিজ্ঞানীর স্বেচ্ছাবসর গ্রহণ নিয়েও বিস্তর জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন যে, বেসরকারি সংস্থার মোটা অঙ্কের বেতন এবং লোভনীয় সুযোগ-সুবিধার লোভেই বিজ্ঞানীরা এই পথ বেছে নিয়েছেন। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে ইসরো নিজেদের স্বমহিমায় অটুট থাকার বার্তা দিল।