মনের মতো স্বামী পেতে কি কুমারী মেয়েরাও করতে পারে হরতািলকা তীজ? জেনে নিন শাস্ত্রের আসল রহস্য!

হিন্দুধর্মে তীজ উৎসবকে অত্যন্ত বিশেষ ও পবিত্র বলে মনে করা হয়। বছরে তিনটি প্রধান তীজ উৎসব পালিত হয়—কাজরি তীজ, হরিয়ালি তীজ এবং হরতালিকা তীজ। এই সমস্ত তীজ উৎসবের মধ্যে হরতালিকা তীজের তাৎপর্য সর্বাধিক, যা প্রতি বছর ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয় তিথিতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে উদযাপিত হয়। মূলত দেবী পার্বতী এবং ভগবান শিবের শাশ্বত প্রেম ও পবিত্র মিলনকে স্মরণ করেই এই ব্রত পালন করা হয়। এই বিশেষ দিনে বিবাহিত মহিলারা নিজেদের স্বামীর দীর্ঘায়ু এবং সুখময় দাম্পত্য জীবনের কামনায় কঠোর নির্জলা (জল ছাড়া) উপবাস পালন করেন। তবে সাধারণভাবেই অবিবাহিত তরুণীদের মনে প্রশ্ন জাগে যে, তাঁরাও কি এই ব্রত রাখতে পারবেন? ধর্মীয় শাস্ত্র ও পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, এর উত্তর সম্পূর্ণ ইতিবাচক।
পৌরাণিক কিংবদন্তি অনুসারে, ভগবান শিবকে পতি হিসেবে পাওয়ার জন্য দেবী পার্বতী গভীর অরণ্যে অত্যন্ত কঠোর তপস্যা করেছিলেন এবং নিজ হাতে বালি দিয়ে শিবলিঙ্গ তৈরি করে পুজো করেছিলেন। ‘হরতালিকা’ শব্দটি দুটি আলাদা শব্দের সমন্বয়ে গঠিত—‘হরত’ যার অর্থ অপহরণ এবং ‘আলিকা’ যার অর্থ বন্ধু। ভগবান বিষ্ণুর সঙ্গে নিজের অনিচ্ছাকৃত বিবাহ আটকে দেওয়ার জন্য দেবী পার্বতীর সখীরা তাঁকে জোর করে রাজপ্রাসাদ থেকে বরিণে বা ঘন জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিল। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে ১৪ই সেপ্টেম্বর, সোমবার মহাসমারোহে পালিত হবে পবিত্র হরতালিকা তীজ। পঞ্জিকা মতে, তৃতীয়া তিথি শুরু হচ্ছে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ০৭:০৮ মিনিটে এবং তিথি শেষ হবে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ০৭:০৬ মিনিটে। পুজোর সঠিক সময়ে সকালে পূজার শুভ মুহূর্ত হলো ভোর ০৬:১২ থেকে সকাল ০৭:০৬ পর্যন্ত (মোট সময়কাল প্রায় ৫৪ মিনিট)। এছাড়া প্রদোষকালে পুজো করার শুভ মুহূর্ত রয়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর থেকেই।
অবিবাহিত মেয়েরাও অত্যন্ত ভক্তিভরে এই হরতালিকা তীজ ব্রত পালন করতে পারেন। মনের মতো ও কাঙ্ক্ষিত বর বা জীবনসঙ্গী লাভের জন্য এই উপবাস অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। যেহেতু স্বয়ং দেবী পার্বতী কুমারী অবস্থায় ভগবান শিবকে পাওয়ার জন্য এই ব্রত রেখেছিলেন, তাই অবিবাহিতাদের জন্য এটি অত্যন্ত পুণ্যময়। তবে বিবাহিত মহিলাদের মতো অবিবাহিত মেয়েদের কঠোর নির্জলা উপবাস করার বা জলবর্জনের কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। যদি স্বাস্থ্যের অবনতির আশঙ্কা থাকে, তবে অবিবাহিত মহিলারা শুধুমাত্র ফল ও জল খেয়েও অনায়াসে এই উপবাস সম্পন্ন করতে পারেন।
অবিবাহিতদের জন্য তীজ উপবাসের মূল নিয়মকানুনগুলি অত্যন্ত সহজ। উপবাসের দিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরে সারাদিন ব্রত পালনের সংকল্প নিতে হবে। এরপর নিজেদের শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী নির্জলা অথবা ফলভোজ—এই দুই পদ্ধতির যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন। একটি পরিচ্ছন্ন বেদীর ওপর শিব ও পার্বতীর মূর্তি বা ছবি স্থাপন করে ষোড়শোপাচারে ফুল, ফল ও মিষ্টি নিবেদন করতে হবে। অবিবাহিতা মেয়েরা দেবী পার্বতীকে সন্তুষ্ট করতে তাঁর চরণে সিঁদুর ও সধবা সামগ্রী অর্পণ করতে পারেন। পরবর্তীতে ব্রতের পরের দিন সকালে নিয়ম মেনে পুজো ও অর্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমেই উপবাস ভঙ্গ করতে হয়।