ভিন্জাতিতে বিয়ের খেসারত! শ্বশুর-জামাইয়ের পারিবারিক বিবাদ মেটাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ নির্দোষ নারী

বিহারের বেগুসরাই জেলার নয়গাঁও থানার অন্তর্গত বাগদোদ বাজারে একটি স্থানীয় পঞ্চায়েত সভা চলাকালীন হঠাৎই ঘনীভূত হয় চরম হিংসা ও সহিংসতার পরিবেশ। শ্বশুর এবং জামাইয়ের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিবাদ মিটিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে একটি সালিশি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আলোচনা মুহূর্তের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই পুরো ঘটনার মূলে রয়েছে বাগদোদের স্থানীয় বাসিন্দা লালন সিংয়ের মেয়ে এবং হংসপুরের বাসিন্দা মুরারি কুমারের একটি প্রেমের সম্পর্ক, যাঁরা আজ থেকে প্রায় চার বছর আগে পরিবারের অমতে ভালোবেসে একে অপরকে বিয়ে করেছিলেন। এই দম্পতির ব্যক্তিগত অশান্তির সমাধান করতে গিয়েই উভয় পক্ষের উত্তেজিত লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
পঞ্চায়েত সভা চলাকালীন দুই পক্ষের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং পারস্পরিক ক্ষোভ এমন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে তা আর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকেনি। অভিযোগ উঠেছে যে, ওই তীব্র উত্তেজনার মুহূর্তে মেয়েটির পক্ষের এক যুবক—বাগদোদের বাসিন্দা ছোটু সিং—আচমকা একটি দেশি পিস্তল বের করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। সেই সময়েই ঠিক রাস্তার পাশেই নিজের ছোট বিউটি পার্লারের দোকানে বসে নিজস্ব কাজ করছিলেন ৩৭ বছর বয়সি এক সাধারণ গৃহবধূ রেখা দেবী। দুর্ভাগ্যবশত, অভিযুক্তের ছোঁড়া একটি বুলেট সোজা এসে তাঁর হাতে আঘাত করে। মুহূর্তের মধ্যে প্রচুর রক্তক্ষরণে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এই আকস্মিক গোলাগুলির শব্দে পুরো বাজারজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাণের ভয়ে সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করায় বাজারে একপ্রকার পদদলিত হওয়ার মতো হুড়োহুড়ি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই সুযোগেই মূল অভিযুক্ত ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
আহত গৃহবধূ রেখা দেবী বালহাপুর পুনর্বাসন গ্রামের বাসিন্দা মনীশ পণ্ডিতের স্ত্রী বলে জানা গিয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বামী গণমাধ্যমের কাছে অত্যন্ত ক্ষোভ ও কান্নার সুরে জানান যে, তাঁর স্ত্রী সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং ঘটনার সঙ্গে দূরদূরান্ত পর্যন্ত তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি কেবল নিজের দোকানে বসে নিয়মমাফিক গ্রাহকদের পার্লার সংক্রান্ত জিনিসপত্র দেখাচ্ছিলেন। ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই নয়গাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোজ কুমার দ্রুত পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় সাহসী বাসিন্দাদের সহযোগিতায় রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় ওই মহিলাকে দ্রুত উদ্ধার করে বেগুসরাই সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে বর্তমানে চিকিৎসকদের কঠোর তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার তীব্রতা ও সংবেদনশীলতা উপলব্ধি করে জেলা পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ হাই অ্যালার্টে রয়েছে। বেগুসরাইয়ের পুলিশ সুপার মনীশ এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান যে, পারিবারিক বিবাদের জেরে এক কিশোর বা যুবকের ছোঁড়া গুলিতে এক নিরীহ নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে সাইবার ডিএসপির পদমর্যাদার আধিকারিক ইমরান আহমেদের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ দল এই ঘটনার সমস্ত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখছে। পাশাপাশি, এই নক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত সমস্ত যুবকদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের সম্ভাব্য গোপন আস্তানায় জোরদার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অপরাধীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না এবং খুব শীঘ্রই তাদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে।