হার্টের রোগীদের জন্য বড় স্বস্তি! মাছ খেলেই কি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে? জেনে নিন কোন ৩টি মাছ খাবেন আর কোনটি ভুলেও ছুঁবেন না

হার্টের সমস্যা মানেই কি পাতে মাছ-মাংসের কড়া নিষেধাজ্ঞা? চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং সঠিক মাছ বেছে নিয়ে পরিমিত পরিমাণে খেলে তা হৃদপিণ্ডের সুরক্ষায় সবচেয়ে বড় ওষুধ হিসেবে কাজ করতে পারে। মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলেও সমস্ত মাছে এর পরিমাণ সমান থাকে না। তাই কোন মাছ আপনার হার্টকে সুস্থ রাখবে এবং কোনটি ডেকে আনতে পারে বিপদ, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন স্বাস্থ্য সচেতনতা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, হৃদরোগীদের জন্য সেরা ৩টি মাছের মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে ছোট মাছ—যেমন পুঁটি, মৌরলা ও চারা পোনা। পুঁটি মাছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং ওমেগা-৩ ভরপুর মাত্রায় থাকে এবং এতে খারাপ চর্বি প্রায় থাকে না বললেই চলে। কাঁটা-সহ এই ছোট মাছ খাওয়ার অভ্যাস শুধু হার্ট নয়, হাড়কেও মজবুত করে তোলে। এছাড়া মাঝারি ও বড় মাছের ক্ষেত্রে ১ কেজির নিচের চারা রুই বা চারা কাতলা বেছে নেওয়া উচিত, কারণ বড় পাকা মাছে চর্বি বেশি জমে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, সহজে লভ্য তেলাপিয়া মাছও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে, তবে তা ভাজার বদলে ঝোল বা সেদ্ধ করে খাওয়া বাঞ্ছনীয়।
তবে সব মাছ যে হার্টের জন্য ভালো, এমন নয়। বিশেষ করে বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় ও লোভনীয় ইলিশ মাছ হার্টের রোগীদের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে। ইলিশে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকলেও এর তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি থাকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট। প্রতি ১০০ গ্রাম ইলিশে প্রায় ২০ গ্রাম ফ্যাট থাকায় এটি রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। তাই হার্টে ব্লকেজ বা হৃদরোগের সমস্যা থাকলে ইলিশ মাসান্তে একবার, তাও ছোট পিস এবং কড়া ভাজা এড়িয়ে খাওয়া উচিত। পাশাপাশি, রান্নার পদ্ধতির ক্ষেত্রেও আনতে হবে বড় পরিবর্তন। সরিষের তেলে কড়া ভাজা বা অতিরিক্ত তেল-মশলার ঝোল এড়িয়ে মাছ সবসময় পাতলা ঝোল, টমেটো এবং ধনেপাতা দিয়ে রান্না করা উচিত। মাছের চামড়া ও পেটের তেল পুরোপুরি ফেলে দিয়ে সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন পুষ্টিকর ছোট মাছ বা রুই-কাতলার গাদা পিস রাখাই হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার চাবিকাঠি। যেকোনো নতুন খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।