বছরে ৪৬ লাখের বেতনের চাকরি ছেড়ে সোজা সেনার পোশাকে! আমাজন ইঞ্জিনিয়ারের কাণ্ডে থ গোটা দেশ!

বছরে প্রায় ৪৬ লক্ষ টাকার মোটা বেতনের চাকরি এবং বহুজাতিক সংস্থায় উজ্জ্বল কেরিয়ার— চাইলে এই বিলাসবহুল জীবনই বেছে নিতে পারতেন ২৭ বছরের শার্দেন্দু তিওয়ারি। কিন্তু কর্পোরেট দুনিয়ার সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ও ল্যাপটপের কোড ছেড়ে তিনি বেছে নিয়েছেন দেশের সেবা করার কঠিন পথ। প্রাক্তন আমাজন ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার শার্দেন্দু এবার ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে যোগ দিয়ে এক অনন্য নজির গড়লেন।
দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গয়ার অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে (OTA) আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অফিসার হিসেবে কমিশন দেওয়া হয়। তবে এই সাফল্য একদিনে আসেনি। সেনায় যোগ দেওয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য তাঁকে মোট আটবার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বারবার ব্যর্থতার পরেও হাল ছাড়েননি তিনি। অবশেষে টেকনিক্যাল এন্ট্রি স্কিমের মাধ্যমে পূরণ হয় তাঁর বহুদিনের স্বপ্ন।
প্রযুক্তি থেকে সেনার পোশাকে রূপান্তর: শার্দেন্দুর এই যাত্রায় তাঁর উচ্চশিক্ষাও বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ইনফরমেশন টেকনোলজিতে বিই (BE) করার পর চণ্ডীগড়ের পঞ্জাব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন সিকিউরিটিতে এমটেক করেন তিনি। এরপর আমাজনে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন। এমনকি এয়ারবাসের মতো সংস্থ থেকেও তাঁর চাকরির প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু সমস্ত লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি যোগ দেন সেনায়।
পারিবারিক ঐতিহ্য ও অনুপ্রেরণা: লখনউয়ের নীলমাথায় বেড়ে ওঠা শার্দেন্দুর আদি বাড়ি সুলতানপুরের পাইপারগাঁওয়ে। হরিয়ানার চণ্ডীমন্দিরের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে তাঁর পড়াশোনা। ছোটবেলা থেকেই তাঁর রক্তে ছিল দেশসেবার টান। তাঁর বাবা অনারারি ক্যাপ্টেন রাজ কুমার তিওয়ারি দীর্ঘ ৩৬ বছর আর্মি সার্ভিস কোরে দেশের সেবা করেছেন। বাবার দীর্ঘ সেনাজীবন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশই শার্দেন্দুর মনে সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জেদ তৈরি করেছিল।
গয়ার ওটিএ-তে প্রশিক্ষণের সময় শার্দেন্দুকে সিনিয়র আন্ডার অফিসারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। পড়াশোনা ও চাকরির পাশাপাশি বাস্কেটবল এবং টেবিল টেনিস খেলতে ভালোবাসেন তিনি। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে অ্যাডভেঞ্চার এবং ফিল্ড পোস্টিংয়ের রোমাঞ্চের কথাই বারবার বলেছেন শার্দেন্দু।
শুধু শার্দেন্দুই নন, এর আগে আইআইটি মাণ্ডির স্নাতক ক্যাপ্টেন অমর সিমহা যাদবও ইউএই-র মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। এই দুই তরুণের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে দিল যে, আকাশছোঁয়া বেতন বা বিদেশের সুযোগের চেয়েও দেশের জন্য কাজ করার জেদ আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে কতটা দামি।