মোবাইলের নেশা আর মাদক থেকে বাঁচান পড়ুয়াদের! শিক্ষক দিবসে বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির!

শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানী দিল্লিতে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারপ্রাপ্তদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভায় পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পড়ানোর আধুনিক পদ্ধতি এবং বর্তমান প্রজন্মের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি। এদিনের বৈঠকে বিশেষ করে পড়ুয়াদের মাত্রাতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম কমানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের ব্যবহার রোধে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মাদক ও মোবাইলের নেশা নিয়ে চরম উদ্বেগ: বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ও ল্যাপটপের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি এবং তার ফলে বেড়ে চলা স্ক্রিনটাইম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই আসক্তি কাটিয়ে উঠলে তবেই পড়ুয়ারা মাঠে নেমে খেলাধুলা করার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি, বড় শহরগুলির বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে মাদকের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। শিক্ষকদের উদ্দেশে মোদি স্পষ্ট জানান, বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য শিক্ষকদের শুধুমাত্র পাঠ্যবই বা সিলেবাসের গণ্ডিতে আটকে থাকলে চলবে না, বরং পড়ুয়াদের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকতে হবে।

শৈশব বাঁচানোর গুরুদায়িত্ব: শিক্ষকদের কাজ কেবল পড়াশোনা করানো নয়, বরং শিশুদের শৈশব বাঁচিয়ে রাখাও তাঁদের অন্যতম বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে স্কুলগুলিতে নিয়মিত নানা সহপাঠ্যক্রম ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষকরা তাঁদের নানা অভিনব উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতার কথা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভাগ করে নেন। এর মধ্যে কেউ পরীক্ষার নতুন পদ্ধতি, তো কেউ আবার রসায়নের সঙ্গে পরিবেশ শিক্ষা ও পাবলিক স্পিকিং যুক্ত করার দারুণ সব উদাহরণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি, একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল (EMRS)-এর সাফল্য এবং স্তন ক্যানসার সচেতনতা নিয়ে এক শিক্ষিকার করা বিশেষ গবেষণারও উচ্চ প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।