একশো বছর ধরে বিসর্জনের দিন জ্বলে না রান্নার উনুন! চিঁড়ে-দই খেয়ে কীভাবে এই আজব নিয়মে মেতে ওঠেন গ্রামবাসীরা?

দেশজুড়ে যখন জাঁকজমকপূর্ণভাবে জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়, তখন বিহারের সুপাউল জেলার বাসবিত্তি কুঁয়ার টোলায় পালিত হয় সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক ঐতিহ্য। গত একশো বছর ধরে চলা এই নিয়মের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এখানে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে দেবী ভগবতীর আরাধনা করা হয় এবং প্রতিমা বিসর্জনের দিন গোটা গ্রামে রান্নার জন্য কোনও উনুন বা চুলা জ্বালানো হয় না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই নিয়মে গ্রামবাসীরা রান্না করা খাবার এড়িয়ে কেবল চিঁড়ে, দই এবং ফল খেয়েই দিনটি কাটিয়ে দেন।

প্রায় ছয় দশক ধরে চলে আসা এই অনন্য উৎসবে কেবল কৃষ্ণের জন্মোৎসবই নয়, বরং রাধারানী ও মাতৃদেবীর উদ্দেশ্যেও বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। প্রতিমা তৈরির সুযোগ পাওয়ার জন্য গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করেন, যা এই পুজোর পবিত্রতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বিসর্জনের দিন সকালে গোটা গ্রাম নিরামিষ ও কাঁচা খাবারের নিয়মে মেতে ওঠে, এবং রান্নার পরিবর্তে ঠান্ডা জলখাবার খেয়ে হাজার হাজার ভক্ত ঢাকের বাদ্যি ও ভক্তিগীতিতে মেতে বিসর্জন শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শতবর্ষের এই প্রাচীন ধর্মীয় সংস্কার ও বিশ্বাস আজও সুপাউলের এই জনপদকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।