মাথা ফাটানোর অহংকার নিমেষেই উধাও! যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীর বাবাকে মারধরে অবশেষে জালে ইনফ্লুয়েন্সার স্বতন্ত্র

দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারী নেতার প্রবীণ বাবাকে মারধরের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজধানী। সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরাধের কথা স্বীকার করে দম্ভভরে ভিডিও পোস্ট করার পর অবশেষে বিতর্কিত ইনফ্লুয়েন্সার ও পডকাস্টার স্বতন্ত্র ভারদ্বাজকে আটক করেছে পুলিশ।
গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিক্ষোভ চলাকালীন সংগঠনের সদস্য নিশু আজাদের বাবা সঞ্জয় কুমারের ওপর চড়াও হন অভিযুক্তরা। অভিযোগ ওঠে, স্বতন্ত্রের হাতে থাকা ধাতব কড়ার আঘাতে ওই বৃদ্ধের মাথা ফেটে যায় এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। ঘটনার পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয় যখন সম্প্রতি স্বতন্ত্র নিজে একটি পডকাস্টের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন। সেখানে তাঁকে সগর্বে বলতে শোনা যায় যে তিনি ওই বৃদ্ধের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন এবং কোনো রাজনৈতিক নেতার হস্তক্ষেপে তিনি পুলিশের হাত থেকে বেঁচেও গেছেন। এই ভিডিও সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে তুমুল বিক্ষোভ দেখায় সিজেপি সমর্থকরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও আটকের আগে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন স্বতন্ত্র। তাঁর দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে আক্রমণ করেননি তিনি। বরং ১০-১৫ জনের ভিড়ে গণপিটুনির হাত থেকে বাঁচতে আত্মরক্ষার্থেই তিনি হাতাহাতিতে জড়িয়েছিলেন। এমনকি তাঁর দাবি ছিল, ভাইরাল হওয়া পডকাস্টের ভিডিওটি এডিট করা হয়েছিল।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজাও চরমে উঠেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নিশু আজাদের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টিও দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, আইন মেনেই পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।