১০০ বছরের পুরোনো হিন্দু মন্দির ধ্বংসের নেপথ্যে কি মাদ্রাসা তৈরির ছক? ভারতের প্রতিবাদের পরেই মুখ খুলল ইসলামাবাদ

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে শতবর্ষ প্রাচীন একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিল দেশটির বিদেশ মন্ত্রক। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর মুখ খুলে ইসলামাবাদ দাবি করেছে, সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কট্টরপন্থীদের মদতে মন্দির ভাঙার অভিযোগ খারিজ করে পাকিস্তানের দাবি, প্রবল বৃষ্টির কারণেই শতাব্দী-প্রাচীন ওই মন্দিরটির কাঠামো ধসে পড়েছিল।

পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে নারোওয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে অবস্থিত ছিল এই প্রাচীন মন্দিরটি, যার বয়স আনুমানিক ১০০ থেকে ১২৫ বছর বলে মনে করা হয়। গত ১ সেপ্টেম্বর সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, ২১ আগস্ট ওই ঐতিহাসিক মন্দিরটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের অভিযোগ ছিল, কট্টরপন্থী ইসলামি দল ‘তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান’ (TLP)-এর সদস্যরা এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার লোকজন জমি দখলের উদ্দেশ্যে মন্দিরটি ধ্বংস করেছে।

এই ঘটনার পর গত ২ সেপ্টেম্বর ভারতের বিদেশ মন্ত্রক তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয়। সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় ভাঙচুরের এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি, দোষীদের আইনের আওতায় এনে অবিলম্বে মন্দিরটি পুনরুদ্ধারের জোরালো দাবি জানানো হয়। ভারতের এই আপত্তির পরেই নড়েচড়ে বসে পাকিস্তান।

এক্স (X)-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক ভারতের সমস্ত দাবিকে ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ডের কর্তাদের উদ্ধৃত করে পাক প্রশাসনের দাবি, গত ২১ জুলাই ভারী বর্ষণের ফলেই মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধসে পড়েছিল। তবে ভারত সরকারের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে পাকিস্তান দাবি করেছে যে, ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরটি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও কাজ শুরু করে দিয়েছে।