‘বিজেপি মমতাকে বাঁচিয়ে রাখবে…’ অভিষেক শিবিরের বিস্ফোরক মন্তব্যে তপ্ত বাংলার রাজনৈতিক মহল!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং দলীয় সংঘাত এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। একদিকে কালীঘাট শিবির এবং অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির—উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত বা ‘সেটিং’-এর গুরুতর অভিযোগ তুলে চলেছে। এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দলের মধ্যেই আগুনে ঘি ঢেলেছেন ঋতব্রত শিবিরের হেভিওয়েট বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র। বৃহস্পতিবার এক বিস্ফোরক মন্তব্যে তিনি সরাসরি রাজ্য রাজনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়ে দাবি করেছেন যে, বিজেপির সঙ্গে গোপন সেটিংয়ের এই রাজনীতির জনক খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, “বিজেপির সঙ্গে সেটিং করার এই তত্ত্বটা পশ্চিমবঙ্গে যিনি প্রথম এনেছিলেন, তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি মদন মিত্র বলছি, বিজেপি শেষ পর্যন্ত মমতাকে বাঁচিয়ে রাখবে। তার কারণ, মমতার থেকে বড় বন্ধু বিজেপির আর কেউ হতে পারে না।” উল্লেখ্য, এর আগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রা এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও একাধিক চাঞ্চল্যকর দাবি করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা। আর এবার সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে এমন অভূতপূর্ব আক্রমণ শানিয়ে তিনি নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু করে দিয়েছেন।

মদন মিত্র আরও আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি গত ১৫ বছর ধরে বাংলার ক্ষমতায় না থাকতেন, তবে বিজেপি হয়তো আরও ৫০ বছর ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেত না। ভারতের মাটিতে বিজেপির যদি সত্যি কেউ প্রধান নির্বাচন এজেন্ট (Chief Election Agent) থেকে থাকে, তবে তার নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” দলেরই একজন বিধায়কের মুখে এহেন কঠোর ও বিতর্কিত মন্তব্য শোনার পরই রাজ্যের শাসক শিবিরে চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।

এদিকে, মদন মিত্রের এই বেফাঁস ও বিস্ফোরক মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় তাঁকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি দলেরই প্রবীণ মন্ত্রী তথা কালীঘাট ঘনিষ্ঠ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি মদন মিত্রের এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে তাঁকে একপ্রকার ‘জোকার’ বলে কটাক্ষ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে এক বড় সঙ্কটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।