এনআরএস কাণ্ডে নবান্নের বিরাট পদক্ষেপ! কুণাল ঘোষের চিঠির পরেই সোজা রোগীর পরিবারকে ফোন মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের

গত ৩০ আগস্ট চিকিৎসায় বড়সড় গাফিলতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গলব্লাডারে স্টোন অপারেশন করার জন্য আনন্দপুরে অবস্থিত নীলরতন সরকার বা এনআরএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বেলেঘাটার বাসিন্দা গোপাল পোড়েলকে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, গলব্লাডারের পাথর অপসারণের অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে চিকিৎসকদের চরম ভুলের কারণে কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁর অ্যাপেন্ডিক্স। এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
অপারেশনের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করলে তাঁকে দ্রুত আনন্দলোক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ভুক্তভোগী গোপাল পোড়েল। ঘটনার তীব্রতা উপলব্ধি করে আনন্দলোক হাসপাতালে গিয়ে রোগীকে ব্যক্তিগতভাবে দেখতে যান বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সেখানে গিয়ে তিনি হাসপাতালের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং চিকিৎসকদের এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং গুরুতর প্রশ্ন তোলেন।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গত রবিবার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে ফোন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি পুরো এনআরএস হাসপাতাল চত্বর এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি গত সোমবার সরাসরি রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে একটি বিস্তারিত চিঠি লিখে গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানান কুণাল ঘোষ।
চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করে নবান্ন। সোমবারই মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে সরাসরি যোগাযোগ করা হয় ভুক্তভোগী গোপাল পোড়েলের পরিবারের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের পক্ষ থেকে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ নেওয়া হয় এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে পরিবারকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। নবান্নের এই দ্রুত পদক্ষেপে চিকিৎসায় গাফিলতির শিকার হওয়া পরিবারটি কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে।