পতন নাকি চরম রাজনৈতিক বিপর্যয়! আমেরিকার মাটিতে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা নেমে এল রেকর্ড ৩৩ শতাংশে?

যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ধাক্কায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক সাম্রাজ্যের ভিত রীতিমতো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই মাস বাকি থাকতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। রয়টার্স থেকে শুরু করে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রধান প্রধান মার্কিন সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর চিত্র, যেখানে দেখা যাচ্ছে ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন রেটিং কমে মাত্র ৩৩ শতাংশে এসে ঠেকেছে। যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে ইরান যুদ্ধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং দেশজুড়ে লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি। ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্পের বোমা হামলার নির্দেশের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। সাধারণ আমেরিকানরা যুদ্ধের নামে এই বাড়তি গ্যাসের দাম ও রেশনের বোঝা বহন করতে সম্পূর্ণ নারাজ। রয়টার্সের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৭১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন ট্রাম্প মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন, যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ মনে করছেন যুদ্ধটি সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৫৪ শতাংশ নাগরিক সামরিক পদক্ষেপকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এই অর্থনৈতিক সংকটের সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে রিপাবলিকান পার্টিকে চরম ভরাডুবির মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জরিপ অনুসারে, মাত্র ৩৬ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন এবং ট্রাম্পের দলের প্রতি সার্বিক সমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ২২ শতাংশে। ডেমোক্র্যাট ভোটারদের যেখানে নভেম্বরের নির্বাচনে অংশগ্রহণের উৎসাহ অনেক বেশি, সেখানে রিপাবলিকান ভোটারদের উৎসাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, এই লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি এবং জনরোষ আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চিত খাদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।