কেন্দ্রের আশ্বাসে গলল বরফ! ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লি অবরোধের আল্টিমেটাম প্রত্যাহার করল CJP

আন্দোলনের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি, কেন্দ্রের তরফ থেকে আসা ইতিবাচক আশ্বাস এবং শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক হস্তক্ষেপ—সব মিলিয়ে বিগত তিন মাসের টানাপোড়েনের পর অবশেষে সংঘাতের রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর নয়াদিিল্লতে যে ব্যাপক মিছিল বা অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছিল, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে তা ಅಧಿಕৃতভাবে প্রত্যাহার করে নিল এই সংগঠন। কেন্দ্রের তরফ থেকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের আশ্বাস এবং মৃত ছাত্রছাত্রীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কার্যকর করার কথা জানানোতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সিজেপির তরফে জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসে NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে ছাত্র-বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছিল, তারই জেরে একাধিক রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর ও মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চে সেই মামলাগুলি শুনানির জন্য ওঠে। এ দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন CJP-র সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস। তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রের সদিচ্ছা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনি স্বীকৃতির পর আর ৫ সেপ্টেম্বরের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না তাঁরা।

এ দিনের শুনানিতে কেবল মামলা প্রত্যাহার নয়, ছাত্রমৃত্যুর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়টিও সামনে আসে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, মৃত ছাত্রদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পালনে কেন্দ্র সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। তবে এই ক্ষতিপূরণের কাঠামো এবং সঠিক প্রাপকদের চিহ্নিত করতে আরও তিন মাস সময়ের প্রয়োজন। পাশাপাশি, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র এবং অসম—এই চার রাজ্যও ছাত্র-বিক্ষোভ সংক্রান্ত এফআইআর খারিজ করার আর্জি নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। সব মিলিয়ে, কেন্দ্র ও CJP-র পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এই দীর্ঘ জটিলতার অবশেষে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ প্রশস্ত হলো।