সামনে বসা পাক প্রধানমন্ত্রীকে কড়া বার্তা! মোদির হুঙ্কারে থমকে গেল শাহবাজ শরিফ, বিশকেকে কী এমন ঘটল?

যুদ্ধের ময়দানে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বিশ্বের সমস্ত যুদ্ধ ও সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে এবং কূটনৈতিক পথেই মেটানো উচিত। কিরঘিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে ঠিক এই ভাষাতেই বিশ্বনেতাদের সামনে জোরালো বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই কূটনৈতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিন সম্মেলনের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, সন্ত্রাসের প্রশ্নে কোনো দ্বিচারিতা বরদাস্ত করা যায় না। সন্ত্রাসের অর্থের জোগান, জঙ্গি নিয়োগ, মৌলবাদী প্রচার এবং তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল—সন্ত্রাসের গোটা পরিকাঠামোই সমূলে ধ্বংস করতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, মোদি যখন এই কড়া বার্তা দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর ঠিক সামনেই উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পাকিস্তানের মাটিতে লালিত-পালিত জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মোদির এই আক্রমণাত্মক ও স্পষ্ট অবস্থান পাক প্রধানমন্ত্রীকে কার্যত কোণঠাসা করে দিয়েছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

পাশাপাশি, প্রকল্প নির্মাণের ক্ষেত্রে অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানানোর পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা CPEC-এর একটি অংশ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ওপর দিয়ে যাওয়ায় ভারতের যে দীর্ঘদিনের আপত্তি রয়েছে, এদিন ঘুরিয়ে সেই প্রসঙ্গটিই ফের তুলে ধরেছেন তিনি। ২০০১ সালে গঠিত এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত নিজের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরে সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর বার্তা দিল।