ওয়ার্কআউটের আগে ব্ল্যাক কফি খেলেই কি হু হু করে কমবে ওজন? জানুন আসল সত্যিটা

আজকাল তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে ফিটনেস সচেতন মানুষের দৈনন্দিন ডায়েটে ব্ল্যাক কফি একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গভীর রাতে অফিসের দীর্ঘ কাজ সামলানো, মানসিক চাপ কমানো কিংবা ওজন ঝরানোর লড়াইয়ে ব্ল্যাক কফি যেন এক জাদুকরি দাওয়াই। আপনিও যদি জিমপ্রেমী হন কিংবা দ্রুত ওজন কমানোর তাগিদে প্রি-ওয়ার্কআউট ড্রিংক হিসেবে ব্ল্যাক কফি পানে অভ্যস্ত হন, তবে এই পানীয় সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। জিম ট্রেনার থেকে শুরু করে নামী ফিটনেস এক্সপার্টরা শরীরচর্চার ঠিক আগে ব্ল্যাক কফি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এর পেছনে আসল বৈজ্ঞানিক কারণ কী এবং এটি কি সত্যিই শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট গলাতে সাহায্য করে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্ল্যাক কফিতে ভরপুর পরিমাণে ক্যাফিন রয়েছে, যা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাকৃতিক স্টিমুল্যান্ট হিসেবে কাজ করে। এটি মানবদেহের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম বা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে দ্রুত সক্রিয় করে তোলে। এর ফলে শরীরে ঝটপট এনার্জি বা শক্তি বৃদ্ধি পায়, ক্লান্তি ভাব দূর হয় এবং জিমে শরীরচর্চার সময় একাগ্রতা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এই কারণেই ওয়ার্কআউটের একটু আগে ব্ল্যাক কফি পান করা বেশ উপকারী বলে মনে করা হয়। তাছাড়া, এই পানীয়ে কোনো ধরনের চিনি, দুধ বা ক্রিম মেশানো না থাকলে এতে ক্যালোরির পরিমাণ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি থাকে। তাই যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তারা যদি সম্পূর্ণ খাঁটি ব্ল্যাক কফি পান করেন, তবে এটি মেদ ঝরানোর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে কিছুটা ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি মনে রাখা দরকার যে, শুধুমাত্র ব্ল্যাক কফি গ্লাসে ঢেলে খেলেই ওজন কমবে না, এর সঙ্গে ঘাম ঝরানো কসরত করাও বাধ্যতামূলক।

তবে ব্ল্যাক কফি মানেই যে তা সবার জন্য সমানভাবে উপকারী, এমনটা ভাবলে মস্ত বড় ভুল করবেন। অতিরিক্ত ক্যাফিন গ্রহণের ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাবড়ে যাওয়া, পেটে তীব্র অস্বস্তি বা বুকজ্বালা এবং অনিদ্রার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপের রোগী, হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, ক্যাফিন থেকে অ্যালার্জি থাকা মানুষ এবং দুশ্চিন্তা বা প্যানিক ডিসঅর্ডারে ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলেন যে, শুধুমাত্র ব্ল্যাক কফির ওপর অন্ধের মতো ভরসা করে অলৌকিকভাবে ওজন কমানো অসম্ভব। এটি মূলত আপনার সামগ্রিক ফিটনেস রুটিনের একটি ছোট্ট পরিপূরক মাত্র। আপনি যদি সুষম ও পুষ্টিকর খাবার না খান, কায়িক পরিশ্রম বা শরীরচর্চা থেকে দূরে থাকেন এবং পর্যাপ্ত ঘুমে অনিয়মিত হন, তবে কোটি কাপ ব্ল্যাক কফিও আপনার শরীরের মেদ গলাতে পারবে না। সুস্থ শরীরে ওজন বা ফ্যাট নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত কার্ডিও ও স্ট্রেন্থ ট্রেনিং, প্রচুর পরিমাণে জল পান এবং প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা গভীর ঘুমের কোনো বিকল্প নেই।