বর্ষায় বাড়ির আশপাশে সাপ লুকিয়ে নেই তো? এই ৫টি গাছ বসালেই ঘরের ত্রিসীমানায় ভিড়বে না সাপের দল!

বর্ষাকালের মনোরম আবহাওয়া যেমন চারপাশের প্রকৃতিকে সজীব করে তোলে, তেমনই তা বাড়ির কাছাকাছি সাপ ও অন্যান্য বিষাক্ত প্রাণীর উপদ্রব বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে বাড়ির আশেপাশে খোলা জমি, ঘাস, ঝোপঝাড় বা জমে থাকা জল থাকলে সাপেরা সহজেই সেখানে লুকিয়ে পড়ার নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষ প্রায়শই ঘরোয়া ও সহজ উপায়ে সাপ দূরে রাখার উপায় খুঁজে থাকে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট গাছের তীব্র গন্ধ সাপেরা একেবারেই পছন্দ করে না এবং সেই সমস্ত উদ্ভিদের ধারেরকাছেও ঘেঁষতে চায় না।
এই প্রসঙ্গে সর্পগন্ধা, লেমনগ্রাস, গাঁদা ফুল, রসুন এবং ওয়ার্মউডের মতো বেশ কিছু গাছের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বাড়ির চারপাশে এই গাছগুলি লাগালেই যে সাপ থেকে শতভাগ সুরক্ষা পাওয়া যাবে, এমনটা ভাবা একেবারেই ঠিক নয়। গাছ লাগানোর পাশাপাশি বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত লনের ঘাস ছাঁটা এবং অপ্রয়োজনীয় কাঠ বা জঞ্জালের স্তূপ জমতে না দেওয়া অনেক বেশি জরুরি। আসুন এই বিশেষ গাছগুলি সম্পর্কে এবং বর্ষাকালে ঘরবাড়ি সুরক্ষিত রাখার কার্যকর সতর্কতাগুলি বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
সাপ তাড়ানোর গাছপালা নিয়ে কী কী লোকবিশ্বাস রয়েছে? প্রথমত, সর্পগন্ধাকে ঐতিহ্যগতভাবে সাপ তাড়ানোর গাছ হিসেবে গণ্য করা হয়, যার নিজস্ব তীব্র গন্ধ ও ঔষধি গুণ রয়েছে। তবে বাড়ির ভেতরে এটি লাগানোর চেয়ে সঠিক সূর্যালোক ও জলের ব্যবস্থাযুক্ত খোলামেলা স্থানে লাগানোই শ্রেয়। দ্বিতীয়ত, লেমনগ্রাসের ঝাঁঝালো গন্ধ মশা ও পোকামাকড়ের পাশাপাশি সাপকেও দূরে রাখে বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। তৃতীয়ত, গাঁদা ফুল বাগানের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি তীব্র গন্ধের জন্য পরিচিত হলেও, এটি যে নিশ্চিতভাবে সাপ তাড়াতে সক্ষম, তার সুনির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। চতুর্থত, জুঁই, শিম এবং রসুনের ঝাঁঝালো গন্ধ সাপের অপছন্দ হওয়ায় অনেকে বাড়ির সীমানায় এগুলি রোপণ করেন। পঞ্চমত, ওয়ার্মউড নামক ভেষজ উদ্ভিদটি গ্রামাঞ্চলে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হলেও শুধুমাত্র এর ওপর নির্ভর করে সাপের উপদ্রব ঠেকানো সম্ভব নয়।
গাছ লাগানোর পাশাপাশি বর্ষাকালে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করা একান্ত আবশ্যক। বাড়ির চারপাশের জঙ্গল, ঝিনুক বা ঝোপঝাড় নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন যাতে সাপের লুকানোর জায়গা না থাকে। ইট, কাঠ, পাথর বা আবর্জনার স্তূপ দীর্ঘ সময় ধরে খোলা অবস্থায় ফেলে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে রাতেরবেলা বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই টর্চলাইট ব্যবহার করুন এবং পায়ে জুতো গলানোর আগে তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।