বেপাত্তা টুলু মণ্ডল! এবার শ্যালকের বিলাসবহুল গাড়ি থেকে উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকার বিদেশি মুদ্রা, আটক শ্যালক

ফের শিরোনামে অনুব্রত অনুগামী তথা আন্ডারগ্রাউন্ড নেতা টুলু মণ্ডল। আর এবার তাঁর নাম জড়াল সরাসরি বিদেশি মুদ্রা উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনায়। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক টুলু মণ্ডলের নাগাল পেতে যখন মরিয়া পুলিশ, ঠিক তখনই তাঁর শ্যালকের গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে। বীরভূম জেলার বোলপুর থেকে ইলামবাজার যাওয়ার প্রধান রাস্তায় আচমকাই এই তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ।
গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে মহিদাপুর গ্রামের নিকট একটি বিশেষ নাকা চেকিং পয়েন্ট তৈরি করেছিল পুলিশ প্রশাসন। প্রতিটি সন্দেহভাজন যানবাহনের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছিল। সেই সময়েই বোলপুরমুখী একটি চারচাকা গাড়িকে থামানো হয় তল্লাশির জন্য। গাড়িটিতে টুলু মণ্ডলের শ্যালক সস্ত্রীক বা একা ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। এরপর গাড়িটির ভেতর পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় তদন্তকারীদের। গাড়ির বিভিন্ন গোপন বা সংরক্ষিত অংশ থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণে বিদেশি মুদ্রা। এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা কীভাবে এবং কোন অসৎ উদ্দেশ্যে ওই গাড়িতে বহন করা হচ্ছিল, তার সদুত্তর দিতে পারেননি চালক তথা টুলু মণ্ডলের শ্যালক।
তাত্ক্ষণিকভাবে গাড়িটি বাজোপ্ত করার পাশাপাশি টুলু মণ্ডলের শ্যালককে আটক করেছে পুলিশ। তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে দফায় দফায় জেরা শুরু হয়েছে। এই বিদেশি মুদ্রার উৎস কোথায় এবং এর নেপথ্যে কোনো বড়ো হাওয়ালা চক্র বা আন্তর্জাতিক চক্রের হাত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। পলাতক টুলু মণ্ডলের সঙ্গে এই অর্থের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে জেরা করে আরও বড়ো কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে। বীরভূমজুড়ে এই ঘটনার পর থেকে প্রশাসনিক তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।