হরিয়ানভি গায়ক অঙ্কিত বালিয়ান খুন কাণ্ডে যোগী পুলিশের বড় সাফল্য! এনকাউন্টারে খতম দুই মূল শুটার

হরিয়ানভি শিল্পী তথা গায়ক অঙ্কিত বালিয়ান হত্যাকাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। সোমবার সকালে শামলিতে উত্তরপ্রদেশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) এবং জেলা পুলিশের যৌথ এক রক্তক্ষয়ী এনকাউন্টারে খুন হওয়া গায়কের দুই মূল শুটার খতম হয়েছে। গত শনিবার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরই গোটা রাজ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। অপরাধীদের ধরতে তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অঙ্কিত বালিয়ানকে খুনের ঘটনার পরই শামলি জেলাজুড়ে কড়া নজরদারি এবং গাড়ি চেকিং শুরু হয়। মধ্যরাত থেকে চলা এই সাঁড়াশি অভিযানে শামলির এসপি নরেন্দ্র প্রতাপ সিং ব্যক্তিগতভাবে পুরো পরিস্থিতির তদারকি করেন। রবিবার মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত জেলার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কঠোর ব্লকেডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আজ ভোর চারটে নাগাদ হিজানার এসএইচও বীরেন্দ্র কাসানা কর্নালের দিক থেকে আসা একটি সন্দেহজনক মোটরসাইকেল থামাতে গেলে দুই দুষ্কৃতী পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। অল্পের জন্য রক্ষা পান পুলিশ কর্মকর্তা। এরপরই দ্রুত ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে গোটা জেলায় অ্যালার্ট জারি করে দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে কোতোয়ালি এলাকার চেকপয়েন্টে ফের পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অপরাধীরা। কিন্তু ততক্ষণে এসওটি, সার্ভেল্যান্স ইউনিট, সিও সিটি এবং এএসপি সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেন। মান্না মাদরা ব্রিজের কাছে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে কোণঠাসা হয়ে পড়ে অভিযুক্তরা। উত্তরপ্রদেশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) অমিতাভ যশ সংবাদমাধ্যমকে জানান, পুলিশের সঙ্গে এই বন্দুকযুদ্ধে সুমিত এবং মোহিত নামের দুই মূল শুটার নিহত হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একাধিক অত্যাধুনিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এই সংঘর্ষে পুলিশের দুই কনস্টেবলও আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার হরিয়ানভি গায়ক অঙ্কিত বালিয়ানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছিল। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই ঘটনার জেরে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে জাঠ সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বিরোধীদের রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টার কড়া জবাব দেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্যাংস্টার জিতেন্দ্র গোগীকে রোহিনী আদালতের ভেতরে হত্যার ঘটনা নিয়ে অঙ্কিত একটি গান তৈরি করেছিলেন, যার জেরে গোগী গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতীরা এই হত্যাকাণ্ডের ছক কষেছিল বলে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে ইঙ্গিত মিলেছে। পুলিশ এখন ঘটনার নেপথ্যে থাকা বাকি শুটার ও গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।