চাল ধোয়া জল কি ডাস্টবিনে ফেলছেন? এই জাদুকরী উপায়ে ব্যবহার করলেই মিলবে ‘গ্লাস স্কিন’ ও রেশমের মতো চুল!

রান্নাঘরের কাজ শেষে চাল ধোয়ার পর সেই জল কি আপনিও অন্য দশজনের মতো অবলীলায় ফেলে দেন? যদি তাই করে থাকেন, তবে এই অভ্যাস আজই বদলানোর সময় এসেছে। পরের বার চালের জল না ফেলে তা আপনার ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ব্যবহার করুন। বর্তমানে বিউটি ওয়ার্ল্ডে ‘গ্লাস স্কিন’ বা কাঁচের মতো স্বচ্ছ ও দীপ্তিময় ত্বকের ট্রেন্ড চূড়ান্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই ট্রেন্ডের হাত ধরেই ত্বকের যত্নে চালের জলের ব্যবহার এখন সর্বজনবিদিত। তবে শুধু ত্বক নয়, চুল ও স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য ফেরাতেও এর কার্যকারিতা অভাবনীয়। বিশেষ করে ফারমেন্টেড বা গাঁজানো চালের জল কীভাবে রূপচর্চায় জাদুকরি ভূমিকা পালন করতে পারে, তা জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমে জেনে নেওয়া যাক কীভাবে ঘরে বসেই নিখুঁত পদ্ধতিতে ফারমেন্টেড চালের জল তৈরি করা সম্ভব। এর জন্য প্রথমে পছন্দের চাল ৩০ মিনিট জলে ভিজিয়ে রেখে এরপর চাল থেকে জলটি আলাদা করে নিতে হবে। প্রাপ্ত জলটি একটি পাত্রে ২ থেকে ৩ দিন রেখে দিতে হবে, যাতে সেটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভালোভাবে গাঁজানো বা ফারমেন্টেড হতে পারে। এই ফারমেন্টেশনের ফলে চালের জলের পুষ্টিগুণ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এই প্রক্রিয়ায় জলে প্রচুর পরিমাণে অ্যামিনো অ্যাসিড, বিভিন্ন উপকারী ভিটামিন এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের ঘনত্ব অত্যন্ত বেড়ে যায়। সবচেয়ে বড় কথা, এই গাঁজন প্রক্রিয়ার সময় ‘পিটেরা’ (Pitera) নামক একটি অত্যন্ত মূল্যবান উপাদান তৈরি হয়, যা মূলত এক ধরনের ফারমেন্টেড ইস্ট। নতুন ত্বকের কোষ বা সেল গঠনে সাহায্য করার ক্ষমতার জন্য বিশ্বজুড়ে এই পিটেরার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।
ত্বক ও চুলের সামগ্রিক যত্নে এই গাঁজানো চালের জল বহুমুখী উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাকৃতিক ফেসিয়াল টোনার হিসেবে এর জুড়ি মেলা ভার। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও কাঁচের মতো স্বচ্ছ ভাব আনতে মুখ পরিষ্কার করার পর তুলোয় করে এটি টোনার হিসেবে মুখে লাগাতে পারেন। অন্যদিকে, চুলের গোড়া শক্ত করতে এবং চুল ভাঙার সমস্যা রোধ করতে শ্যাম্পু করার আগে মাথার ত্বকে এই জল স্প্রে করে হালকা হাতে ১৫ মিনিট মাসাজ করে নিন। এছাড়া বয়সের ছাপ ও বলিরেখা দূর করে ত্বককে টানটান রাখতে চালের জলে ভেজা সুতির কাপড় বা কটন প্যাড ১৫ থেকে ২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে অ্যান্টি-এজিং শিট মাস্কের মতো ব্যবহার করা যায়। সবশেষে, শ্যাম্পুর পর চুল রেশমের মতো মসৃণ ও উজ্জ্বল করতে এটি চমৎকার প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবেও কাজ করে।