আইপিএল তারকার গ্রেপ্তারিতে চরম মোড়! জামিন পেলেন না বাংলার ক্রিকেটার, হাইকোর্টে ধাক্কা

আইপিএল-এর (IPL) চেনাজানা ফ্র্যাঞ্চাইজি দিল্লি ক্যাপিটালসের নির্ভরযোগ্য উইকেটকিপার-ব্যাটার তথা বাংলার এক বিশিষ্ট ক্রিকেটারের গ্রেপ্তারির ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি ও ক্রীড়ামহলে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সম্প্রতি পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এই গ্রেপ্তারিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবং দ্রুত শুনানির আর্জি নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিযুক্ত ক্রিকেটারের আইনজীবী। কিন্তু আইনি লড়াইয়ের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেলেন ওই খেলোয়াড়, কারণ কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর দ্রুত শুনানির আবেদন একপ্রকার খারিজ করে দিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ক্রিকেটারের আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায় এদিন হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। আদালতের কাছে যুক্তি দেওয়া হয় যে, এই মামলার চার্জশিট ইতিমধ্যে পেশ করা হয়ে গেছে। মূলত গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থেকেই এই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছিল, কিন্তু তার আগেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে ফেলে। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন করা যাচ্ছে না, এই যুক্তিতেই দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছিল।
তবে আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায়ের এই সওয়াল খারিজ করে দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তি ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে चुकेছেন, তাই সরাসরি জামিনের জন্য নিম্ন আদালতে বা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। আদালতের নির্দিষ্ট কার্যতালিকা বা নিয়ম মেনেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন, এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে কোনো বিশেষ শুনানির প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, ওই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন কর্নাটকের এক নারী চিকিৎসাবিদ্যার ছাত্রী। গত ২৩ জুন মগড়া থানায় গিয়ে ওই তরুণী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তরুণীর সুনির্দিষ্ট দাবি, অভিযুক্ত ক্রিকেটারের সঙ্গে তাঁর প্রায় সাড়ে তিন বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল। বছর দেড়েক আগে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হলে সেই বিরোধ একসময় থানা পর্যন্ত গড়িয়েছিল, যদিও সেবার কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ওই তরুণী মগড়া থানায় উপস্থিত হয়ে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেন। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে ওই আইপিএল তারকাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সব মহল।