স্মৃতিশক্তি হারানোর দিন কি তবে শেষ? অ্যালঝাইমার্স রুখতে বিজ্ঞানীদের অবিশ্বাস্য সাফল্য!

অ্যালঝাইমার্স রোগে মস্তিষ্কের নিউরন বা স্নায়ুকোষ নষ্ট হয়ে যাওয়া অন্যতম বড় একটি সমস্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্ক অল্প কিছু নতুন নিউরন তৈরি করলেও, অ্যালঝাইমার্সের মতো মারাত্মক রোগে যে পরিমাণ কোষ নষ্ট হয়, তা পূরণ করার জন্য সেই প্রক্রিয়া যথেষ্ট নয়। তবে এই কঠিন সমস্যার সমাধানে এবার এক অবিশ্বাস্য সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা। তৈরি হয়েছে এক বিশেষ জেল, যা মস্তিষ্কের কোষকে নিউরনে পরিণত করতে সক্ষম। ইঁদুরের শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগে মিলছে অভূতপূর্ব ও আশাব্যঞ্জক ফল।
কীভাবে কাজ করে এই বিশেষ জেল?
গত ২৬ আগস্ট ‘সেল বায়োম্যাটেরিয়ালস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি করেছেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার বিজ্ঞানী পেইশেং শু ও তাঁর দল। তাঁরা মূলত ‘অ্যাস্ট্রোসাইট’ নামক তারার মতো দেখতে মস্তিষ্কের এক ধরনের কোষকে লক্ষ্য করেছেন। এই কোষগুলো সরাসরি স্নায়ুর সংকেত না পাঠালেও নিউরনকে সুরক্ষা দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ‘পিটিবিপি১’ নামের একটি প্রোটিন এই কোষগুলোকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা ‘ন্যানো-ইরেসার প্রযুক্তি’ ব্যবহার করে একটি বিশেষ পলিমার জেলের মধ্যে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি রাখেন। মস্তিষ্কের রক্ত-মস্তিষ্ক বা ব্লাড-ব্রেইন ব্যারিয়ার ভেদ করে এই জেল নির্দিষ্ট কোষের কাছে পৌঁছে পিটিবিপি১ প্রোটিনকে নষ্ট করে দেয়। ফলে অ্যাস্ট্রোসাইটগুলোর চরিত্র বদলে নিউরনে রূপ নিতে শুরু করে। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার সময় দেখা গেছে, কোষগুলো নিউরনের মতো শাখা তৈরি করছে এবং নিজেদের মধ্যে বৈদ্যুতিক সংকেত আদানপ্রদান করছে। মানব কোষ থেকে তৈরি মস্তিষ্কের ‘অর্গানয়েড’-এও একই সাফল্য মিলেছে।
ইঁদুরের ওপর সফল পরীক্ষা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা:
অ্যালঝাইমার্সের উপসর্গ থাকা ইঁদুরের শিরায় ৮ দিন অন্তর এই জেলের দু’টি ডোজ প্রয়োগ করা হয়। পরীক্ষার পরবর্তী এক মাসে দেখা যায়, ওই ইঁদুরগুলোর স্মৃতিশক্তি অনেকখানি উন্নত হয়েছে এবং মস্তিষ্কে নিউরনের ঘনত্ব বাড়ার পাশাপাশি প্রদাহও কমেছে।
তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, অ্যাস্ট্রোসাইট সরাসরি নিউরনে রূপান্তরিত হয়েছে কি না বা এর দীর্ঘমেয়াদী কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে কি না, তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। মানুষের শরীরে প্রয়োগের আগে প্রানিদেহের ওপর আরও দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। তা সত্ত্বেও, নষ্ট হয়ে যাওয়া স্নায়ুকোষকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার এই ভাবনা অ্যালঝাইমার্স চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।