১৫ বছরে মানুষকে মানুষই জ্ঞান করেনি! মমতার ‘তৃণমূল ফেরা’ নিয়ে হুংকার বিজেপি নেত্রীর

“তৃণমূল আবার ফিরবে”—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আত্মবিশ্বাসী দাবির তীব্র কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়। রবিবার চুঁচুড়ার বিজেপির ‘দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান’-এ যোগ দিতে এসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কোন তৃণমূল ফিরবে? এ, বি, সি—কোন তৃণমূল?’’ তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরের শাসনে সাধারণ মানুষকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি শাসক দল।
মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর প্রসঙ্গে লকেট:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক এফআইআর দায়েরের প্রসঙ্গ টেনে লকেট সাফ জানিয়ে দেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে সবার জন্যই আইন সমান। তিনি বলেন, ‘‘হাইকোর্টের নির্দেশ না মানলে সবার বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। দল যদি হাইকোর্টের নির্দেশ না মানে, তাহলে এফআইআর হবেই।’’ অতীতে শাসক দলের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি বা মঞ্চ ভাঙার প্রসঙ্গ টেনে লকেট আরও বলেন, ‘‘উনি ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ওঁর জানা উচিত ছিল। উনিও তো কাউকে অনুমতি দিতেন না। মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হতো। আজ নিজেই তার বিপরীত কাজ করছেন। যা হয়েছে, নিয়ম মেনেই হয়েছে।’’
উন্নয়নের রাজনীতি ও তৃণমূলকে নিশানা:
এর পরেই তৃণমূল সুপ্রিমেওর ‘আবার ফেরার’ দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে লকেট বলেন, ‘‘এখন তো অনেক ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে দল। ১৫ বছর ধরে তারা যা করেছে, তাতে মানুষকে মানুষ বলে জ্ঞান করেনি।’’ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদল হয়েছে দাবি করে বিজেপি নেত্রীর মন্তব্য, রাজ্যে এখন ‘বিকাশের রাজনীতি’ ও ‘উন্নয়নের রাজনীতি’ চলছে। দীর্ঘ দিন পর রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিজেপি সরকার কাজ করে চলেছে বলে জানান তিনি। চুঁচুড়ার দলীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কর্মীদের আগামীদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্যও প্রস্তুত থাকার কড়া বার্তা দেন।