দলিতদের ওপর আক্রমণ নাকি চরম অস্পৃশ্যতা? উত্তরাখণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী মোদির নীরবতা নিয়ে বিস্ফোরক রাহুল গান্ধি!

চলতি মাসের শুরুর দিকে উত্তরাখণ্ডের হলদওয়ানিতে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ভাষণ দেওয়ার একটি জনসভার স্থানকে ঘিরে হওয়া ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান নিয়ে রাজনীতি এখন উত্তপ্ত। এই ঘটনায় তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শনিবার বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘকে (RSS) একহাত নিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। এই ঘটনাকে সরাসরি একটি ‘অপরাধ’ ও অস্পৃশ্যতার সমার্থক বলে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার জোরালো দাবি তুলেছেন তিনি।
দিল্লির ইন্দিরা ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল অভিযোগ করেন, বিজেপি ও আরএসএস নেতৃত্ব এবং কর্মীরা আজও মনে মনে অস্পৃশ্যতা চর্চা করেন। সংবিধান অনুযায়ী এটি কেবল নিষিদ্ধই নয়, একটি গুরুতর অপরাধও বটে। কংগ্রেস নেতার কথায়, “হলদওয়ানির এই শুদ্ধিকরণের ঘটনাটি আসলে বিজেপি-আরএসএস-এর সেই সংকীর্ণ মানসিকতারই প্রকাশ, যেখানে তারা দলিতদের সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে বা সফল হতে দেখতে চায় না।”
মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো দেশের একজন প্রবীণ ও দলিত নেতার সঙ্গে যদি এমন আচরণ করা যেতে পারে, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেই প্রশ্নও তোলেন রাহুল। তিনি জানান, এই ঘটনার ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও দোষীদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ করা হয়নি। এমনকি উত্তরাখণ্ডের বিজেপি প্রধান মহেন্দ্র ভাট যেভাবে এই শুদ্ধিকরণকে সমর্থন জানিয়েছেন, তাকেও তীব্র কটাক্ষ করেন রাহুল।
প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেকে সব বর্ণের মানুষের প্রতিনিধি বলে দাবি করেন, অথচ তাঁর দলেরই রাজ্য প্রধান এই ধরনের অপরাধমূলক কাজকে প্রকাশ্যে সমর্থন করছেন।” তাঁর দাবি, এসসি/এসটি (SC/ST) আইনের আওতায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রীর। দেশের সংবিধান এবং আদর্শ রক্ষায় কংগ্রেস সভাপতি তথা দলিত সমাজের অধিকারের লড়াইয়ে দল সবসময় পাশে থাকবে বলে হুংকার দেন রাহুল গান্ধি।