রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও আজ থেকে তাঁরা ‘বোন’! আসানসোলে রাখি পূর্ণিমায় তৃতীয় লিঙ্গের পাশে দাঁড়ানোর বড় বার্তা!

সম্পর্ক কি কেবল রক্তের টানেই তৈরি হয়? সমস্ত প্রচলিত ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উৎসবের দিনে এক অন্যরকম মানবতার ছবি দেখা গেল আসানসোলে। রাখি পূর্ণিমা উপলক্ষে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত এক বিশেষ রাখি উৎসবে সমাজের মূলস্রোত থেকে দূরে থাকা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের হাতে রাখি পরিয়ে তাঁদের সম্মান, নিরাপত্তা এবং পূর্ণ অধিকারের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্তারা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট, ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই বিশেষ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায় এবং জেলাশাসক এস পোন্নামবালমসহ বিশিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকেরা।

রাখির ফ্রেমে রূপ নিল সম্প্রীতির অন্য ছবি
এ দিনের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন কিন্নর সমাজের প্রতিনিধিরা। এক এক করে তাঁরা মঞ্চে এসে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্তাদের হাতে রাখি পরান। এরপর বিধায়ক ও জেলাশাসকও তাঁদের হাতে রাখি পরিয়ে ভাই হিসেবে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

কিন্নর সমাজের সদস্য লোনা সাহা ভট্টাচার্য প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, বিধায়ক ও আধিকারিকরা তাঁদের সুরক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার যে আশ্বাস দিয়েছেন, তাতে তাঁরা দারুণভাবে উৎসাহিত হয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শুধু একটি দিনের অনুষ্ঠান নয়, আগামী দিনেও তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টি সুনিশ্চিত থাকবে।

‘ওঁরাও আমাদেরই মানুষ’: বিধায়ক ও জেলাশাসক
কিন্নরদের হাতে রাখি পরানোর পর আবেগঘন কণ্ঠে বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, “সমাজের কোনো শুভকাজ ওঁদের ছাড়া হয় না। এই সমাজে সবার মাথা তুলে সম্মਾਨের সঙ্গে বাঁচার অধিকার রয়েছে। আমরা যেমন মানুষ, ওঁরাও তেমনই মানুষ।” আগামী দিনে তাঁদের সুখ-দুঃখ এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে ভাই হিসেবে সমস্ত দায়িত্ব পালনের কথা জানান তিনি।

জেলাশাসক এস পোন্নামবালমও একই সুর চড়িয়ে বলেন, “আমাদের মতো ওঁরাও মানুষ। তাই তাঁদের সম্মਾਨের সঙ্গে মূলস্রোতে ফিরিয়ে এনে মানুষের মতো বাঁচার অধিকার দিতে হবে। আমরা সেই কাজই করে চলেছি।”

উল্লেখ্য, আসানসোলে এর আগেও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সামাজিক অধিকার ও সরকারি পরিষেবা নিশ্চিত করতে একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে উৎসবের আবহে এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে এক গভীর ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।