মুখ্যমন্ত্রী শহরের রাস্তা সারার বৈঠকে ব্যস্ত, এদিকে গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স ঢোকে না! খাটিয়ায় রোগী টানার ছবি দেখলে বুক কেঁপে উঠবে!

শহরে রাস্তার বৈঠকে জোর, আর গ্রামবাংলার ছবিটা ঠিক উল্টো! বর্ষার কাদা পেরিয়ে আজও খাটিয়ায় বইছে রোগীর জীবন

কলকাতার বেহাল রাস্তাঘাট সংস্কার নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন এবং পুজোর আগেই রাস্তা ঠিক করার আশ্বাসও দিয়েছেন। একদিকে যখন শহরাঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নের তোড়জোড় চলছে, ঠিক তখনই গ্রামবাংলার এক অন্য এবং নির্মম বাস্তব চিত্র সামনে এল। সামান্য বৃষ্টিতেই যেখানে শহরের অলিগলি জলমগ্ন হয়, সেখানে গ্রামীণ এলাকার বেহাল রাস্তার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন কীভাবে থমকে যায়, তার জ্বলন্ত উদাহরণ পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের রাউতগ্রাম বামপুকুরের পাড় এলাকা।

রাস্তা নেই, ভরসা শুধু খাটিয়া:
স্থানীয় প্রায় ৫০টি পরিবারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তাঁদের এলাকায় পাকা তো দূরের কথা, কোনো ভালো কাঁচা রাস্তাও গড়ে ওঠেনি। ফলে বর্ষাকাল আসতেই সেই রাস্তা কাদা-জলে একাকার হয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে বসতি পর্যন্ত কোনো গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

সবথেকে মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন গ্রামের কোনো গর্ভবতী নারী বা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে ঢুকতে না পারায় পরিবারের লোকজন এবং প্রতিবেশীদের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে খাটিয়া। গভীর কাদা ভেঙে খাটিয়ায় করে রোগীকে কাঁধে চাপিয়ে মূল রাস্তায় নিয়ে আসতে হয়। এরপর সেখানে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো গাড়ির ব্যবস্থা করে তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্কুলপড়ুয়াদেরও চরম দুর্ভোগ:
শুধু চিকিৎসাগত জরুরি অবস্থাই নয়, রাস্তার এই দুরবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে এলাকার কোমলমতি স্কুলপড়ুয়ারাও। রাস্তায় হাঁটুর সমান কাদা জমে যাওয়ায় অনেক দিনই শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ রেখে ঘরে বসে থাকতে হয়। স্বাধীনতার এত বছর পরেও গ্রামীণ বাংলার এমন কঙ্কালসার চিত্র দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ দিন দিন বেড়েই চলেছে।