পালাবদলের হাওয়া নাকি পুরনো মুখের ক্যারিজমা? মালদার দুই পুরসভা দখল করতে কার ওপর ভরসা রাখছে বিজেপি?

মালদা জেলার দুই পুর এলাকায় গেরুয়া পতাকা উড়লেও বিগত পুর নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী এখনও এই দুই পুরসভা তৃণমূল পরিচালিত। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আসন্ন পুর নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। বিশেষ করে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এই দুই পুরসভায় বিজেপির সম্ভাব্য মুখ বা কাণ্ডারী কে হবেন, তা নিয়েই এখন চলছে জল্পনা-কল্পনা।

রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে যে, আসন্ন পুর নির্বাচনে ইংরেজবাজারে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী এবং পুরাতন মালদায় কার্তিক ঘোষকে নিজেদের মুখ হিসাবে তুলে ধরতে পারে পদ্ম শিবির। যদিও বিজেপির রাজ্য বা জেলা নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি এবং দুই নেতার অনেকাংশেই মুখে কুলুপ রয়েছে। তা সত্ত্বেও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই এলাকায় ব্যাপক সাফল্য পেলেও, স্থানীয় নির্বাচনে পোড়খাওয়া ও গ্রহণযোগ্য মুখের অভাব বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।

গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে ইংরেজবাজার এবং পুরাতন মালদা পুর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বিজেপি। তবে লোকসভা বা বিধানসভা ভোটের ফলাফল যে সবসময় স্থানীয় পুর নির্বাচনে প্রভাব ফেলে না, তার প্রমাণ অতীতেও মিলেছে। কারণ, স্থানীয় স্তরে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি এবং চেয়ারম্যান পদ সামলানোর মতো পরিচিত মুখের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বলে দলেরই নিচুতলার কর্মীদের একাংশ মনে করেন। রাজ্য পালাবদলের পর তৃণমূলের বেশ কিছু নেতা ও জনপ্রতিনিধি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, দলীয় নেতৃত্ব আপাতত এই বিষয়ে রক্ষণাত্মক নীতিই বজায় রেখেছে।

প্রধান হাইলাইটস:
সম্ভাব্য মুখের জল্পনা: রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, আসন্ন পুরভোটে ইংরেজবাজারে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী এবং পুরাতন মালদায় কার্তিক ঘোষকে মুখ করতে পারে বিজেপি।

বিধানসভা ভোটের সাফল্য: বিগত বিধানসভা নির্বাচনে ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদা এলাকার প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই দুর্দান্ত ফল করেছিল পদ্ম শিবির।

সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ: বড় জয় পেলেও স্থানীয় স্তরে পুরসভা পরিচালনার মতো পোড়খাওয়া মুখের অভাব এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে তৎপর দল।

নেতৃত্বের নীরবতা: এই জল্পনা নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বা সংশ্লিষ্ট দুই নেতার পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।