জাতীয় শিক্ষক সম্মান! ঝাড়গ্রামের এই মাস্টারমশাইয়ের ছকভাঙা পঠনপাঠনের গল্প শুনলে চোখ কপালে উঠবে

চক, ডাস্টার আর গতানুগতিক পুঁথিগত বিদ্যার গণ্ডি পেরিয়ে আঞ্চলিক ভাষা, লোকসংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এক অনন্য ও যুগান্তকারী নজির গড়লেন ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রাম গভর্নমেন্ট মডেল স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক শান্তনু পাত্র। প্রকৃতির কোলে হাতে-কলমে শিক্ষা দানের পাশাপাশি পটচিত্র, ঝুমুর ও বাহা গানের মতো লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল বিষয়গুলি পড়ুয়াদের কাছে অত্যন্ত সহজ ও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন তিনি। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসের পবিত্র দিনে নয়াদিল্লিতে দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে মর্যাদাপূর্ণ ‘জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার’ গ্রহণ করবেন এই কৃতি শিক্ষক। তাঁর এই অনন্য সাফল্যে উচ্ছ্বসিত গোটা স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ঝাড়গ্রাম জেলা।
হুগলির তারকেশ্বরের নিবাসী শান্তনু ২০১৭ সাল থেকে ঝাড়গ্রামের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষকতা করছেন। কেবল ক্লাসরুমের চার দেওয়ালের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে, তিনি স্কুলে গড়ে তুলেছেন অত্যাধুনিক ‘ডিজিটাল হাব’, বিশেষ ডিসকাশন প্ল্যাটফর্ম এবং ক্রিয়েশন সেন্টার। বাবুই ঘাস ও তালপাতার সামগ্রী তৈরি কিংবা জৈব সার উৎপাদনের মতো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের আধুনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে জাপান, অসম এবং গুজরাটের স্কুলের পড়ুয়াদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ও সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। পাঠ্যসূচির কঠিন ভাষার পরিবর্তে ছাত্রছাত্রীদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষা ও লোকসংস্কৃতির মিশেলে পঠনপাঠন পরিচালনা করায় তারা খুব সহজেই বিষয়গুলি আয়ত্ত করতে পারছে।