শ্রাবণ পুত্রদা একাদশীতে রাজস্থানের খাতু ধামে উপচে পড়া ভিড়! ঘরে বসেই কীভাবে করবেন বাবা শ্যামের পুজো ও আবেদন?

রাজস্থানের সিকারের বিশ্ববিখ্যাত খাতু ধামে পবিত্র শ্রাবণ পুত্রদা একাদশী উপলক্ষে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ তারিখে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে বাবা শ্যামের দুই দিনব্যাপী এই মহা মাসিক মেলা। একাদশী থেকে দ্বাদশী তিথি পর্যন্ত চলা এই বিশেষ মেলায় দেশের দূরদূরান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত খাতু ধামে উপস্থিত হয়েছেন। ভক্তরা বাবা শ্যামের অলোকসামান্য দর্শন লাভ করে নিজেদের মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছেন। তবে যাতায়াতের নানা সমস্যার কারণে যারা এই পবিত্র তিথিতে সরাসরী খাতু ধামে উপস্থিত হতে পারেননি, তাদের নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। ভক্তরা চাইলেই ঘরে বসে খুব সহজে বাবা শ্যামের কাছে নিজেদের প্রার্থনা ও আবেদনপত্র জমা দিতে পারেন।

ঘরে বসেই বাবা শ্যামের কাছে আবেদন জানানোর এই বিশেষ পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ। প্রথমে একটি পরিষ্কার সাদা কাগজ নিয়ে লাল কলমের সাহায্যে তাতে সযত্নে “শ্রী শ্যাম” লিখতে হবে। এরপর সেই লেখার ঠিক নিচে নিজের নাম এবং মনের গোপন ইচ্ছা বা প্রার্থনাটি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লিখে ফেলতে হবে। ইচ্ছাটি লেখার সময় মন সম্পূর্ণ শান্ত রেখে বাবা শ্যামের গভীর ধ্যান করা উচিত। এরপর একটি শুকনো নারকেলের ওপর কিছু চাল অথবা মিছরি রেখে তার সঙ্গে ওই লিখিত আবেদনপত্রটি রাখতে হবে। একটি লাল রঙের পবিত্র সুতো বা কাপড় দিয়ে নারকেলটি শক্ত করে বেঁধে ফেলতে হবে। এই বিশেষ নৈবেদ্যটি এরপর আপনার বাড়ির গৃহমন্দিরে বাবা শ্যামের ছবি বা মূর্তির সামনে সসম্মানে স্থাপন করতে হবে। প্রতিদিন নিয়মিত পূজার সময় নিজের মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য ওই নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে বাবা শ্যামের কাছে প্রার্থনা করতে হবে।

পরবর্তী সময়ে যখনই আপনার খাতু ধামে গিয়ে সরাসরি বাবা শ্যামকে দর্শন করার সুযোগ মিলবে, তখন বাড়ির মন্দিরে সযত্নে সংরক্ষিত এই নারকেল ও নৈবেদ্যটি সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হবে। কিংবদন্তি ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এই পবিত্র নিবেদন সরাসরি বাবা শ্যামের রাজসভায় অর্পণ করা হয়। মন্দিরে উপস্থিত হয়ে বাবা শ্যামের দর্শন সম্পন্ন করার পর ভক্তরা নিজেদের সমস্ত অনুরোধ ও ভক্তিভরা প্রার্থনা সপ্নে নিবেদন করতে পারেন। পুত্রদা একাদশী তিথি ভগবান বিষ্ণুর উপাসনা এবং বিশেষ ব্রত পালনের জন্য অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি দিন হিসেবে পরিগণিত হয়। খাতু শ্যামজির অগুণিত ভক্তদের মধ্যে এই গভীর বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে যে, করুণাময় বাবা তাঁর ভক্তদের আকুল ডাকে দ্রুত সাড়া দেন এবং একান্ত হৃদয়ে নিবেদিত যেকোনো প্রার্থনা সাদরে গ্রহণ করেন। এই কারণেই পুত্রদা একাদশীর মতো পুণ্য লগ্নে ভক্তদের মধ্যে দর্শন ও পূজার উন্মাদনা থাকে তুঙ্গে।