‘ইতিহাস না জেনেই এমন মন্তব্য!’ অনন্ত মহারাজের বেফাঁস কথায় ফুঁসে উঠলেন জি বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা অঙ্কিত মজুমদার

বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে কেন্দ্র করে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে গত কয়েকদিনে রাজ্যজুড়ে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই ঘটনার নিন্দাে মুখর হয়েছেন সাধারণ নেটিজেন থেকে শুরু করে টলিউডের জনপ্রিয় শিল্পীরাও। বিশেষ করে এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ছোটপর্দার পরিচিত মুখ তথা অভিনেতা অঙ্কিত মজুমদার। ছোটবেলায় দর্শক তাঁকে জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘নেতাজি’-তে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেছিলেন। বর্তমানে তিনি ‘কনে দেখা আলো’ এবং ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’র মতো সফল ধারাবাহিকে নিয়মিত অভিনয় করছেন। পাশাপাশি একাধিক প্রশংসিত ওয়েব সিরিজেও তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছে। নেতাজির মতো একজন মহান নেতার প্রতি এমন অবমাননাকর মন্তব্য কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি তরুণ এই অভিনেতা।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে অঙ্কিত মজুমদার অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, অনন্ত মহারাজের এই বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। তিনি বলেন, জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়ে নিলেও সেই অবমাননাকর কথাগুলোর রেশ থেকেই যায়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে দেশনায়ক হিসেবে সম্মান জানানোর পেছনে যথেষ্ট ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা না রেখে কীভাবে দায়িত্বশীল পদে থেকে কেউ এরকম কুরুচিকর মন্তব্য করতে পারেন, সেই প্রশ্ন তোলেন অভিনেতা। অঙ্কিত আরও উল্লেখ করেন, এই গোটা বিষয়টিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা ভুল হবে, এটি বর্তমানে একটি অত্যন্ত গুরুতর সামাজিক পরিস্থিতির রূপ নিয়েছে। এই খবর যখন প্রথম তাঁর কানে আসে, তিনি তীব্র বিরক্ত ও মর্মাহত হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, এই বিতর্কের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, নেতাজির সম্মানের সঙ্গে আপস করার প্রশ্নই ওঠে না এবং সরকারের নীতি এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’। ঠিক তার পরের দিনই অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নেওয়া হয়। সরকারি এই কড়া পদক্ষেপের পরেই অনন্ত মহারাজের গলায় সম্পূর্ণ উল্টো সুর শোনা যায়। নিজের পদ ও সম্মান হারানোর পরপরই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন। সেই সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, নেতাজির প্রতি অগাধ সম্মান রেখেই তিনি বলছেন, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর অনিচ্ছাকৃত বক্তব্যের কারণে যদি কেউ মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন। তবে ক্ষমা চাওয়ার পরও এই বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই।