সংসদে হট্টগোলের মাঝে মহা বিস্ফোরণ! রাম মন্দিরের প্রসাদ চুরি থেকে উপনির্বাচনের হার নিয়ে তুমুল লড়াই

সংসদ অধিবেশনের দ্বাদশ দিনটি চরম হট্টগোল, স্লোগান এবং রাজনৈতিক তরজায় পুরোপুরি বিঘ্নিত হলো। মঙ্গলবার লোকসভা ও রাজ্যসভা— উভয় কক্ষেই রাম মন্দিরের প্রসাদ চুরির অভিযোগ তুলে সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে বিরোধীরা। স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের জেরে বারবার মুলতুবি রাখতে হয় অধিবেশন। এর মাঝেই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন কর সংশোধনী বিল উত্থাপন করলেও, বিতর্কের চেয়ে স্লোগানের আওয়াজই ছিল চারদিকে বেশি।
রাম মন্দির থেকে উপনির্বাচন: উত্তাল অন্দর ও বাহির
সংসদের অন্দরে যখন রামের নামে রাজনীতি চরমে, তখন করিডোর এবং বাইরে আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে বিহারের বাঁকিপুর এবং মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফল। বাঁকিপুরের মতো আসনে বিজেপির পরাজয় নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরেও শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এই সুযোগ হাতছাড়া না করে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, “এই ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে জনগণ বিজেপির ওপর ত্যক্তবিরক্ত, আর এটি কেবল শুরু!” বিরোধী শিবির এই জয়কে আসন্ন বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছে।
অন্যদিকে, প্রিয়াঙ্কার মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে বিজেপি সাংসদ বিবেক ঠাকুর জানান, রাজনীতিতে হার-জিত লেগেই থাকে এবং প্রতিটি উপনির্বাচনের পর যথাযথ পর্যালোচনা করা হয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে অতীতেও কিছু উপনির্বাচনে ধাক্কা খেলেও পরবর্তীতে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের হার ছিল ৯০ শতাংশ। ফলে কেবল উপনির্বাচনের ফল দিয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না।
সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজুও খাড়গের অভিযোগের জবাবে বিরোধীদের মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে কারা রাম মন্দির নির্মাণের বিরোধিতা করেছিল আর আজ তারাই রামের নাম নিয়ে রাজনীতি করছে।
কর্মসংস্থানের রিপোর্ট কার্ড পেশ সরকারের
সংসদের বাইরে ও অন্দরে যখন বিরোধীরা বেকারত্ব ও উপনির্বাচনের ফল নিয়ে সরকারকে কোণঠাসা করতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে ভিন্ন কৌশল নেয় সরকার। Gen-Z বা যুব সমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও সীমিত কর্মসংস্থান নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়া একটি বিশদ কর্মসংস্থান প্রতিবেদন পেশ করেন।
ওই বৈঠকে দাবি করা হয় যে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতে ১৭ কোটিরও বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। গত এক দশকে কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বিরোধীদের বেকারত্ব সংক্রান্ত অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে এনডিএ শিবির। সব মিলিয়ে, রাম মন্দির বিতর্ক, উপনির্বাচনের ধাক্কা এবং কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান— এই তিনের জেরে মঙ্গলবার এক হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক দিনের সাক্ষী থাকল সংসদ।