মধ্যপ্রাচ্যে ফের ভয়াবহ যুদ্ধের দামামা, ট্রাম্পের হুঙ্কারের পর ইরানে মার্কিন সেনার ধ্বংসাত্মক বিমান হানা!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে আবারও চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সাময়িক স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়লেও, উভয় প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরেও পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান পুনরায় হামলা চালায়। এর কড়া ও তৎক্ষণাৎ জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ আক্রমণ চালায়। এর আগে, জর্ডন ভূখণ্ডে অবস্থিত একটি গোপন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে উপযুক্ত ও চরম জবাব দেওয়ার প্রকাশ্যে কঠোর হুমকি দেন।
এই কঠোর হুঁশিয়ারির বাস্তবায়ন ঘটিয়ে বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটিতে ধারাবাহিক ও মারাত্মক বিমান হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম (CENTCOM) এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জোরালো দাবি করেছে যে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কড়া প্রতিশোধ নিতেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর বেশ কয়েকটি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে এই অপারেশন চালানো হয়েছে। সেন্টকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টায় এই সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ঘটে। সেন্টকমের বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই অভিযানে আইআরজিসির উচ্চপর্যায়ের সামরিক কমান্ড কেন্দ্র, মূল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লঞ্চিং প্যাড, উপকূলীয় নজরদারি ও নিরাপত্তা কেন্দ্র এবং তাদের প্রধান সামুদ্রিক সক্ষমতাগুলো নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সেন্টকমের মতে, এই আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী, বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর সুরক্ষার স্বার্থে ইরান ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর তৈরি করা ক্রমবর্ধমান হুমকি স্থায়ীভাবে হ্রাস করা।
পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর হামলার অপচেষ্টায় আইআরজিসি বাহিনী সরাসরি ইরান ভূখণ্ড থেকে পরপর একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করার ঠিক একদিন পরেই যুক্তরাষ্ট্র এই বিধ্বংসী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল। সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইরানের ছোড়া সেই সমস্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝআকাশে সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছিল। এর আগে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ প্রকাশিত একটি অফিশিয়াল পোস্টে সেন্টকম নিশ্চিত করেছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর চালানো ইরানি আগ্রাসনের সরাসরি প্রতিশোধ নিতে মার্কিন বাহিনী রাত আটটা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সেন্টকমের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন কৌশলগত ঘাঁটিতে ৫০ হাজারের অধিক মার্কিন সেনা অত্যন্ত সতর্ক ও সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় মোতায়েন রয়েছে।
এই চরম রক্তক্ষয়ী হামলাগুলো এমন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে সংঘটিত হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি পুনরায় খুব জোরালোভাবে উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন তেহরানকে অত্যন্ত কঠোর ও মর্মান্তিক আঘাত হানার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে, “এবার তাদের ওপর পূর্ণ শক্তিতে আঘাত হানার পালা আমাদের।” হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে উপস্থিত হয়ে মিশরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় এর আগে ঘটে যাওয়া রহস্যময় বিস্ফোরণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হলে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে তিনি এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সম্পর্কে গোয়েন্দা বিভাগের কাছ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্রিফিং পেয়েছেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কূটনীতির সম্ভাবনা পুরোপুরি খারিজ না করে মন্তব্য করেন, “দেখা যাক, অদূর ভবিষ্যতে কোনো না কোনো পর্যায়ে আমরা একটি পারস্পরিক কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছাতে পারি কি না।” উল্লেখ্য, বুধবার মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরে সংঘটিত রহস্যময় ড্রোন হামলার ঠিক পরপরই একটি মার্কিন মালিকানাধীন ও পরিচালিত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি জাহাজে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই বিস্ফোরণের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অনমনীয় ও কঠোর প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা সংকটকে নতুন করে মারাত্মকভাবে উস্কে দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে এক চরম অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।