পাসপোর্টের শক্তিতে কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত ও পাকিস্তান? হেনলি ইনডেক্সের নতুন রিপোর্ট দেখে চমকে উঠবেন!

বিশ্ব ভ্রমণের জন্য পকেটে টাকা আর হৃদয়ে সাহস থাকাই যথেষ্ট নয়। মানুষের জীবনের এই রোমাঞ্চকর শখটি অনেকাংশেই নির্ভর করে তার দেশের পাসপোর্টের শক্তির ওপর। সম্প্রতি প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৯৯টি দেশকে তাদের পাসপোর্টের ক্ষমতার ভিত্তিতে র্যাঙ্ক করা হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থানের ব্যবধান আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তালিকায় পাকিস্তানের অবস্থান আরও লজ্জাজনকভাবে অবনতি ঘটেছে, যার ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম দুর্বল পাসপোর্টের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। বর্তমানে হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে পাকিস্তান ১০১তম স্থানে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ভারত এই সূচকে ৮১তম স্থানে রয়েছে। অবশ্য ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ভারত ৭৬তম স্থানে ছিল, যা থেকে বোঝা যায় গ্লোবাল মোবিলিটির ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
২০২৫ সালের হেনলি পাসপোর্ট সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান ছিল ৯৬তম, যা থেকে আরও পাঁচ ধাপ পিছিয়ে এবার তারা ১০১তম স্থানে নেমে গেছে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তানি নাগরিকরা বিশ্বজুড়ে মাত্র ২৯টি দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসার মাধ্যমে প্রবেশাধিকার পান। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে চীন ও তুরস্ককে তাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে দাবি করে থাকে। অথচ এই দুটি বন্ধুরাষ্ট্রও পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসা-মুক্ত বা সহজ প্রবেশের দরজা খোলা রাখেনি। জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ, অবৈধ অভিবাসন এবং সন্ত্রাসবাদের সম্ভাব্য হুমকির কথা জোরালোভাবে উল্লেখ করে চীন পাকিস্তানিদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে পূর্বের ভিসা নেওয়ার নিয়ম বহাল রেখেছে। অন্যদিকে, মুসলিম বিশ্বের স্বঘোষিত নেতা বলে নিজেদের দাবি করা তুরস্কও একই পথ অনুসরণ করেছে। চরমপন্থী হুমকি ও কঠোর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তুরস্কও পাকিস্তানি পাসপোর্টধারীদের জন্য কড়া যাচাই-বাছাই এবং পূর্বানুমতির শর্ত আরোপ করেছে।
এর বিপরীতে, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বিশ্বভ্রমণ অনেক বেশি সহজ ও সাবলীল হয়ে উঠেছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ভারতীয়রা কোনো রকম জটিলতা বা দুশ্চিন্তা ছাড়াই ৫০টিরও বেশি দেশে সরাসরি ভ্রমণ করতে পারেন। ইলেকট্রনিক ট্র্যাভেল অথরাইজেশন (ETA) এবং অন্যান্য সহজ শর্তের মাধ্যমে ভারতীয়রা বিশ্বের অসংখ্য দেশে ঝামেলাহীন ভিসা-মুক্ত, ভিসা-অন-অ্যারাইভাল বা সরাসরি প্রবেশের সুবিধা উপভোগ করছেন। এই দেশগুলির তালিকায় রয়েছে ভুটান, নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কাজাখস্তান, কাতার, ওমান, মরিশাস, কেনিয়া, সেশেলস, ফিজি, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া সহ আরও বহু আকর্ষণীয় গন্তব্য।
হেনলি পাসপোর্ট সূচকের বিশদ বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, বিশ্বজুড়ে মাত্র ১১টি দেশ পাকিস্তানি পাসপোর্টধারীদের জন্য সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশের অনুমতি দিয়ে থাকে। এছাড়া মাত্র ১৬টি দেশ তাদের অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা দেয় এবং তিনটি দেশ ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করে। মজার বিষয় হলো, ভারতের প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত ও অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা প্রদান করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে কূটনৈতিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাই যে একটি দেশের পাসপোর্টের মান নির্ধারণ করে, হেনলি ইনডেক্সের এই নতুন প্রতিবেদন তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে দিল।