শিল্পীদের নতুন মঞ্চ, ফেডারেশনে স্বচ্ছতা! টলিউডের অচলাবস্থা কাটাতে নবান্নে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত

বাংলা বিনোদন জগতের চাকচিক্যের আড়ালে যে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক জটিলতা ও অব্যবস্থা জমে রয়েছে, তা এবার সরাসরি পৌঁছে গেল নবান্নের দরবারে। টলিউডের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং ফেডারেশন থেকে বিভিন্ন গিল্ডের কার্যপদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনতে রাজ্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। ৮ জুন নবান্নের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এই বৈঠকে টলিউডের বর্তমান সংকট ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ ও পাপিয়া অধিকারীর মতো বিশিষ্টজনেরা। সরকারের তরফে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডঃ সুব্রত গুপ্ত, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রধান সচিব শান্তনু বসু এবং চলচ্চিত্র অধিকর্তা কৃত্তিবাস নায়কসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয় ছিল টলিউডের অসংগঠিত ফেডারেশন কাঠামো। বর্তমান ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নতুন কমিটি গঠিত না হওয়ায় শিল্পের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থে এবং কর্মীদের জীবিকা সুরক্ষিত করতে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। এই তালিকায় রয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব (দীপক অধিকারী), জিশু সেনগুপ্ত, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়সহ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের বড় মাপের ব্যক্তিত্বরা। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আওতাধীন ৪০টি সংস্থার কাজের পুনর্বিন্যাস করার সিদ্ধান্তও হয়েছে। কোন সংস্থাগুলি কার্যকর আর কোনগুলি অপ্রয়োজনীয়, তা যাচাই করতে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ট্রেড ইউনিয়ন আইন ১৯২৬-এর অধীনে ফেডারেশন নিবন্ধিত হওয়ায় সরাসরি বড় কোনো পরিবর্তন আপাতত আনা সম্ভব নয়। তবে ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট সংগ্রহ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের পথ খোলা রাখা হয়েছে। এছাড়া সরকারি অডিটোরিয়াম ও হল বরাদ্দের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে ‘অভিন্ন আবেদনপত্র’ চালুর ভাবনা রয়েছে। বছরজুড়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্যালেন্ডারও নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মোড়কে এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো টলিউডের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটানো। একটি শিল্প শুধুমাত্র তারার আলোয় বাঁচে না, তার মূল ভিত্তি হলো কলাকুশলী, টেকনিশিয়ান ও স্বপ্নবাজ মানুষ। সেই ভিত্তি সুদৃঢ় করতেই নবান্নের এই উদ্যোগ। এখন দেখার, আলোচনার টেবিলে ওঠা এই প্রস্তাবগুলি কতটা দ্রুত ও কার্যকরীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং বাংলা বিনোদন শিল্প এক নতুন ও স্বচ্ছ অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে কি না।