ভবানীভবনে মুখোমুখি অভিষেক-কুণাল? সই জাল কাণ্ডে রবিবার সিআইডির তলব ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা!

রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবথেকে চর্চিত বিষয় হলো ভবানীভবনে তৃণমূল নেতাদের তলব। সই জালিয়াতি কাণ্ডের তদন্তে নেমে সিআইডি ক্রমশ তাদের জাল গুটিয়ে আনছে। শুক্রবার ফের কুণাল ঘোষকে নোটিশ পাঠিয়েছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। শুধু কুণাল ঘোষই নন, একই মামলায় তলব করা হয়েছে দলের বিধায়ক মদন মিত্র এবং প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেও। এই ঘটনাক্রমের মধ্যেই সবথেকে বড় চমক রবিবার, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের সমসাময়িক সময়ে ভবানীভবনে উপস্থিত থাকার কথা। এই কাকতালীয় সূচিই এখন রাজনৈতিক মহলে ‘অভিষেক-কুণাল মুখোমুখি’ হওয়ার জল্পনাকে উস্কে দিয়েছে।

সূত্রের খবর, সই জালিয়াতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাথমিক জেরা করে সিআইডি আধিকারিকরা খুব একটা সন্তুষ্ট নন। তাই ফের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন অনুভব করছেন তদন্তকারীরা। রবিবারের সূচি অনুযায়ী, অভিষেকের জেরার ঠিক কিছু সময় পরেই কুণাল ঘোষকে ডাকা হয়েছে। এই সময়সূচি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রবল কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্ত নিয়ে নিজের অবস্থান খুব স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আমি তদন্ত কখনোই এড়িয়ে যাইনি। লুকানোর কিছু নেই বলেই বারবার তলব করা সত্ত্বেও আমি তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হয়েছি। দিল্লিতে হোক বা সিজিও কমপ্লেক্সে, সব জায়গাতেই আমি সহযোগিতা করেছি। আমি ১৪ জুন ফের ভবানীভবনে হাজিরা দেব।”

পাশাপাশি ভোট প্রচারে ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত নোটিশ পাওয়া নিয়ে এদিন কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি জানান, মিটিং চলাকালীন সিআইডির কর্মীরা নোটিশ দিতে এলেও, তাঁর অফিস কর্মীর হাতে তা তুলে দেওয়া হয়েছে। অভিষেক স্পষ্ট বলেন, “যারা নোটিশ দিতে আসবেন, আগে থেকে জানিয়ে আসুন। নয়তো অফিসের বাইরে অপেক্ষা করুন। আমি তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।”

অন্যদিকে, তদন্ত প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা ফাঁস হওয়া নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি বলেন, “তদন্তকারী সংস্থাকে দেওয়া আমার উত্তর এবং তাদের প্রশ্ন যেভাবে মিডিয়াতে বেরিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে আমি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব।”

সিআইডি সূত্রে খবর, ভোট প্রচারে উস্কানি ও প্ররোচনামূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগে ১৬ জুন বেলা ১১টার সময় অভিষেককে ফের তলব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে একদিকে একের পর এক আইনি নোটিশ, অন্যদিকে দলের ভেতরকার সমীকরণ—সব মিলিয়ে রাজ্যের শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশই জটিল হচ্ছে। ভবানীভবনের করিডোরে রবিবার কী নাটকীয় মোড় আসে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের মানুষ।