পাহাড়ে ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ দশা বিজেপির! ৩ আসনে ৫ দাবিদার, শরিকি চাপে কোণঠাসা গেরুয়া শিবির।

শৈলশহর দার্জিলিং এখন রাজনীতির উত্তাপে ফুটছে। লোকসভা হোক বা বিধানসভা—পাহাড় বরাবরই পদ্মশিবিরের ওপর ভরসা রেখেছে। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। এবার আসন বণ্টন নিয়ে শরিকদের সাঁড়াশি চাপে রীতিমতো নাজেহাল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। একদিকে বিমল গুরুং, অন্যদিকে অজয় এডওয়ার্ড, আর মাঝে বর্তমান বিধায়ক নীরজ জিম্বা—দার্জিলিং আসনটি এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘জমজমাট’।
তৃণমূলের সঙ্গে জোট থাকলেও অনীত থাপার ‘ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা’ (BGPM) ইতিমধ্যেই তিন আসনেই নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে প্রচারে ঝড় তুলেছে। অনীতের সাফ কথা, “তৃণমূল আমাদের সম্মান দেয়, কিন্তু বিজেপি কাউকে সম্মান দিতে জানে না।” এই পরিস্থিতিতে বিজেপি এখনও ঠিক করে উঠতে পারেনি তারা নিজেরা লড়বে নাকি শরিকদের ওপর ভরসা করবে। জিএনএলএফ নেতা নীরজ জিম্বা নিজের আসন ছাড়তে নারাজ, আবার অজয় এডওয়ার্ডের নজরও ওই একই আসনের দিকে। অন্যদিকে কালিম্পং বা দার্জিলিংয়ের মধ্যে একটি আসন না পেলে যে বিমল গুরুং রেহাই দেবেন না, তাও স্পষ্ট।
বিজেপির হিল সভাপতি কল্যাণ দেওয়ান আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিলেও সময় বয়ে যাচ্ছে। শরিকি কোন্দল মেটাতে না পারলে পাহাড়ের রাশ গেরুয়া শিবিরের হাতছাড়া হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উত্তরের এই তিন আসনেই এখন ‘বড় শরিক’ বনাম ‘ছোট শরিক’-এর ইগোর লড়াই তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত পাহাড়ের মুকুট কার মাথায় ওঠে, সেটাই এখন দেখার।