রাজ্যে নজিরবিহীন ঘটনা! একই দিনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক, চরম উদ্বেগে স্কুল কর্তৃপক্ষ

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে এবার এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে চলেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে একই সঙ্গে আয়োজিত হতে চলেছে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। একই দিনে এই দুই মেগা পরীক্ষা পরিচালনা করতে গিয়ে কার্যত কালঘাম ছুটছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সামাল দিতে জেলা শিক্ষা দফতরকে রীতিমতো যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ৮টি কন্ট্রোল রুম খুলতে হয়েছে।

জটিলতার মূলে কী? ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। ওই দিনই আবার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ঐচ্ছিক বা অপশনাল বিষয়ের পরীক্ষা। সমস্যা আরও বেড়েছে উচ্চমাধ্যমিকের নতুন নিয়মে। ওই দিন চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষার পাশাপাশি যারা আগের সেমিস্টারে ব্যাক পেয়েছিলেন বা গত বছর অনুত্তীর্ণ হয়েছিলেন, তাঁদেরও পরীক্ষা নেওয়া হবে। ফলে একই দিনে একাধিক স্তরের পরীক্ষার্থী, পৃথক প্রশ্নপত্র এবং পৃথক সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট সামলানো শিক্ষকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

বেল নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা: মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের সময়সীমা আলাদা। ফলে পরীক্ষার সংকেত বা বেল বাজানো নিয়ে ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হ্যামিল্টনগঞ্জ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরিন্দম মজুমদার। তাঁর মতে, ওই দিন মাধ্যমিকের শেষ দিন হওয়ায় পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও উল্লাস উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের একাগ্রতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ১৮টি কেন্দ্রে মাধ্যমিকের ঐচ্ছিক পরীক্ষা থাকায় সেখানে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জেলা শিক্ষা আধিকারিক ভাস্কর মজুমদার জানিয়েছেন, দুই পরীক্ষার সময় আলাদা হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবুও একই দিনে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর চাপ সামলানো এবং শান্ত পরিবেশ বজায় রাখাটাই এখন প্রশাসনের কাছে সবথেকে বড় পরীক্ষা।