“না পারলে ভারত ছাড়ুন!” মেটা-কে নজিরবিহীন ধমক সুপ্রিম কোর্টের, নিষিদ্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য পাচার

ভারতীয় নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ‘ডেটা প্রাইভেসি’ নিয়ে এবার মার্কিন টেক জায়ান্ট মেটা (Meta) ও হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp)-কে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এক মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এ দেশের মানুষের গোপনীয়তা নিয়ে কোনো রকম ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত করা হবে না। মেটার আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি কড়া সুরে বলেন, “যদি আমাদের সংবিধান অনুসরণ করতে না পারেন, তবে ভারত ছেড়ে চলে যান।”

আদালতে এদিন ২০২১ সালের হোয়াটসঅ্যাপ প্রাইভেসি পলিসি সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। অভিযোগ উঠেছে, হোয়াটসঅ্যাপ তার ব্যবহারকারীদের নতুন নীতি গ্রহণ করতে বাধ্য করছে, যেখানে অন্য মেটা প্ল্যাটফর্মের (যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম) সঙ্গে তথ্য শেয়ার করা বাধ্যতামূলক। কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (CCI) এই কাজের জন্য সংস্থাকে ২১৩ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই নীতিকে ‘শোষণমূলক’ বলে অভিহিত করার পর প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “আমরা ভারতীয়দের শোষণের পক্ষে দাঁড়াব না। আপনাদের নীতি এতটাই জটিল যে বিহারের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ বা একজন সাধারণ বিক্রেতা তা বুঝতেই পারবেন না। এটা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করার একটা কৌশল মাত্র।”

প্রধান বিচারপতি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, হোয়াটসঅ্যাপে ডাক্তারকে শরীর খারাপের কথা লিখলেই মোবাইলে ওষুধের বিজ্ঞাপন আসতে শুরু করে। মেটার আইনজীবীরা ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’-এর দোহাই দিলেও আদালত তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল তথ্যের অপব্যবহার রুখতে তারা কঠোর পদক্ষেপ নেবে। আপাতত ২১৩ কোটির জরিমানা বহাল থাকলেও, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে মেটার ওপর চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।