শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ রাষ্ট্রসঙ্ঘের, তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে সমর্থন

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন ট্রাইবুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় নীতিগতভাবে আক্ষেপ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ (United Nations)। তবে একইসঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই ‘বিচার’ হওয়াকে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছে।

মৃত্যুদণ্ড নিয়ে নীতিগত অবস্থান:

রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রসঙ্ঘ নীতিগতভাবে দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে আসছে। তিনি বলেন:

“পরিস্থিতি যতই গুরুতর হোক না কেন, মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া কখনই কাম্য নয়।”

দুজারিক এ বিষয়ে মানবাধিকার বিভাগের কমিশনার ভোল্কার টার্কের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত বলে জানান।

শান্ত থাকার বার্তা ও দোষীর দায়বদ্ধতা:

দুজারিক টার্কের অফিস থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতির প্রসঙ্গে তুলে ধরেন, যেখানে বাংলাদেশের নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং উত্তেজিত হয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘ জোর দিয়ে বলেছে যে কোনো ঘটনায় অপরাধ সংগঠিত হলে, অভিযুক্ত এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়া ব্যক্তিকে অবশ্যই অপরাধের দায় নিতেই হবে, এবং এই তালিকায় একটি রাষ্ট্রের প্রধানও পড়েন।

জেনেভায় কর্মরত মানবাধিকার কর্মী রবিনা শামদাসানি জানান, গণ আন্দোলনের সময় বাংলাদেশে মানবাধিকার একাধিকবার লঙ্ঘিত হয়েছিল। সেদিক থেকে নির্যাতিতদের জন্য এই বিচার একটি বিশেষ মুহূর্ত

বিচার প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড:

রবিনা শামদাসানি মন্তব্য করেন যে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সর্বদা আন্তর্জাতিক স্তরে কী কী ঘটছে সেটা মাথায় রেখে করা উচিত, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হওয়া বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে একটা মিল থাকে এবং দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। বিশেষ করে মূল অভিযুক্ত যখন দেশে নেই, তখন বিচার প্রক্রিয়া আরও নিবিড় হওয়া উচিত।

রায় ও তথ্য:

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন ট্রাইবুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি পৃথক ঘটনায় শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। একই অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলেও হাসিনার আমলের পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লা আল-মামুনের ৫ বছরের কারাবাস হয়েছে, কারণ তিনি রাজসাক্ষী হিসেবে ৪৫৩ পাতার রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত করার বিস্তারিত বিবরণ আদালতকে জানিয়েছেন। হাসিনা ও তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে দেশে নেই, কেবল আল-মামুনই দেশে আছেন।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের ফেব্রুয়ারি মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্ট মাসে বাংলাদেশে হওয়া হিংসায় প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।